ইন্দ্রনীল সেনের চেয়ারে বসতে নারাজ নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা, দায়িত্ব নিয়েই সরালেন ঘরের আসবাবপত্র

পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকারের দফতর বণ্টনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই মহাকরণে নিজের দফতরে ঢুকে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন যে চেয়ারটিতে বসতেন, সেই পুরনো চেয়ারে বসতে সাফ অস্বীকার করেন নতুন মন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশে শেষ পর্যন্ত ওই ঘরের নির্দিষ্ট চেয়ারটিই বদলে ফেলা হয়। প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
চেয়ার বয়কটের কারণ ও দুর্নীতির অভিযোগ
দফতরে পা রেখেই নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী আধিকারিকদের কাছে জানতে চান নির্দিষ্ট চেয়ারটি পরিবর্তন করা সম্ভব কি না। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের দিকে সরাসরি আঙুল তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি আগে এই দায়িত্বে ছিলেন তিনি অনেক কীর্তি ঘটিয়েছেন এবং বাংলাকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে অনেক কিছু করেছেন, তাই তিনি ওই চেয়ারে কোনোভাবেই বসবেন না। উল্লেখ্য, কলকাতায় দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’ টিকিট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে সম্প্রতি প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী এবং আরও তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। এই আইনি ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির ছায়া থেকে নিজের দফতরকে মুক্ত রাখতেই নতুন মন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা ও সম্ভাব্য প্রভাব
‘মেঘদূত ফাউন্ডেশন’-এর দুই কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় ও সগুনা মুখোপাধ্যায়ের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই সেটিকে মুনাফা লোটার হাতিয়ার করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর লোগো ও নাম ব্যবহার করে পুজোর আগের দিনগুলিতে চড়া দামে ভিআইপি প্রিভিলেজড টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল, যার সাথে ইউনেস্কোর কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি বা দূরতম সম্পর্ক ছিল না। অভিযোগকারীরা পুলিশের কাছে এই প্রতারণা চক্রের সপক্ষে একগুচ্ছ ইমেল ও আইনি নথিপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব নিয়েই নতুন মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, আগামী দিনে পূর্বতন জমানার এই আন্তর্জাতিক স্তরের জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে নবান্ন অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ করতে চলেছে, যা পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের সামগ্রিক ভাবমূর্তি সংশোধনে বড় প্রভাব ফেলবে।