একই নির্বাচনে দুই নীতি! তথ্য গোপনে কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বহাল এনডিএ প্রার্থী

একই নির্বাচনে দুই নীতি! তথ্য গোপনে কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বহাল এনডিএ প্রার্থী

আসন্ন ১৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দিচ্ছে ভিন্ন চিত্র। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে এক রাজ্যে বিরোধী দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হলেও, প্রায় একই ধরনের অভিযোগে অন্য রাজ্যে শাসক জোটের সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিত নীতি ও রিটার্নিং অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে স্বস্তিতে এনডিএ প্রার্থী

ঝাড়খণ্ডের এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়ন গৃহীত হওয়ায় তাঁর রাজ্যসভা নির্বাচনে লড়তে আর কোনো বাধা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস বিধায়ক নমন বিক্সাল কোঙ্গারি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, হলফনামায় একাধিক বাণিজ্যিক সংস্থায় ডিরেক্টর থাকার বিষয়টি গোপন করেছেন এই ব্যবসায়ী তথা সাংসদ। পাশাপাশি, মনোনয়নপত্রে নামের বানান নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। তবে কংগ্রেস এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে রিটার্নিং অফিসার পরিমলের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

মধ্যপ্রদেশে বাতিল কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন

এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গিয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা খারিজ করে দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও রাকেশ সিংয়ের অভিযোগ ছিল, মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের একটি আদালতে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেননি। যদিও কংগ্রেসের দাবি, ওই মামলা নয়, কেবল একটি আইনি নোটিস পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার সেই যুক্তি খারিজ করায় ওই আসনে বিনা ভোটেই বিজেপির জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী হলফনামায় প্রামাণ্য তথ্য গোপন করার আইনি বিধান অত্যন্ত কড়া হলেও, রিটার্নিং অফিসারদের ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণেই একই অপরাধে দুই প্রার্থীর ক্ষেত্রে দুই রকম সিদ্ধান্ত এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক যন্ত্রের পক্ষপাতমূলক আচরণের ফলেই এই ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাসকদলের প্রার্থীর জয়ের পথ প্রশস্ত হচ্ছে, তেমনই সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *