৩৭০ টাকার বিরিয়ানি ও যৌনতার বিতর্ক! নাম জড়াল জোম্যাটোরও

স্ট্যান্ড-আপ কমেডির নামে কুরুচিকর ও যৌনগন্ধী মন্তব্য ঘিরে বর্তমানে উত্তাল নেটদুনিয়া। কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের ‘দ্য অশ্লীল শো’ নামের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। শোয়ের একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আয়োজক ও শিল্পীরা। বিশেষ করে নারীদের আসাম্মান এবং যৌন সম্মতির মতো গুরুতর বিষয়কে লঘু করে দেখার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বিতর্কের মূল কারণ ও ভাইরাল বয়ান
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে হিমাংশু নামের এক তরুণকে ডেটিং সংস্কৃতি নিয়ে একটি বিতর্কিত ঘটনা বর্ণনা করতে শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, এক তরুণীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানোর পর তিনি ওই তরুণীকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার শর্ত হিসেবে শারীরিক সম্পর্কের দাবি তোলেন। তাঁর সাফ কথা, খাবারের জন্য খরচ করা ৩৭০ টাকা তিনি ‘উসুল’ বা আদায় করতে চান। এমনকি তরুণীকে অন্ধকার পার্কে নিয়ে গিয়ে জোর করে চুম্বন ও স্পর্শ করার কথাও অত্যন্ত হালকা চালে প্রচার করা হয়। প্রণীত মোরের শোয়ে এ ধরনের মন্তব্যে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগ ওঠায় তাঁর দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লাগাতার সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে বাধ্য হয়েছেন এই বিতর্কিত কৌতুকশিল্পী।
জোম্যাটোর প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিতর্কের মাঝেই একটি ভুয়া স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জোম্যাটোর পক্ষ থেকে বিরিয়ানির বিনিময়ে যৌনতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। জোম্যাটোর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, বিরিয়ানি কেবলই একটি ডিনার বা খাবার, এটি কোনোভাবেই সম্মতির প্রতীক হতে পারে না। পাশাপাশি, তাদের নামে ছড়ানো ওই স্ক্রিনশটটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসন্মানজনক ও জাল বলে দাবি করেছে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এ ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য সমাজে বিকৃত মানসিকতা ও অপরাধমূলক প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেয়। বিশেষ করে ডেটিংয়ে সম্মতির অভাবকে স্বাভাবিক হিসেবে তুলে ধরার এই প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিনোদন জগতে সুস্থতার চর্চা এবং আইনি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।