বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশি ডিজে, সঙ্গী কেটি পেরি!

ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরুর আগেই এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি পারফর্ম করার সুযোগ পেয়েছেন এই তরুণ শিল্পী। যা বিশ্বসঙ্গীতের আঙিনায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি।
বিশ্বমঞ্চে সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা সঞ্জয়ের শেকড় রয়েছে বাংলাদেশে। মৌলভিবাজারের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয়ের শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে পরিবারসহ আমেরিকা পাড়ি জমান তিনি। মা ও দিদিমার হাত ধরে সঙ্গীতে হাতেখড়ি হওয়া সঞ্জয় বহুসাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে একজন পরিণত শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে তাঁর অন্তর্ভুক্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেরই বড় মাইলফলক নয়, বরং এটি বিশ্বসঙ্গীতের মানচিত্রে বাংলাদেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এবারের আসরে তাঁর সঙ্গে অফিসিয়াল অ্যালবামে দ্য রোলিং স্টোনস, শাকিরার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা থাকছেন। অন্যদিকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি পারফর্ম করবেন কেটি পেরি এবং ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরও কয়েকজন মহাতারকার সঙ্গে।
সাফল্যের কারণ ও বিশ্বমঞ্চে প্রভাব
বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণে বেড়ে ওঠা এবং নিজস্ব লোকজ ও আধুনিক সঙ্গীতের মেলবন্ধন তৈরির অদম্য ইচ্ছাই সঞ্জয়কে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তিনি ফিফার মতো বিশাল মঞ্চের নজরে এসেছেন। এই অর্জনের সম্ভাব্য প্রভাব সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, এটি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রতিভার এক নতুন পরিচয় তুলে ধরবে। দ্বিতীয়ত, এটি প্রবাসী বাঙালি তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি বাংলাদেশের উদীয়মান সঙ্গীতশিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি দর্শকের সামনে তাঁর এই পারফরম্যান্স বাঙালি জাতিকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য গৌরবের অংশীদার করে তুলেছে।