স্কুলে হিন্দু বন্ধুকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানোর চেষ্টা! চাঞ্চল্য

আসামে একটি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এক হিন্দু ছাত্রকে জোর করে গোমাংস খাওয়ানোর চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোয়ালপাড়ায় ঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিযুক্ত ছাত্র ও তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মুসলিম ছাত্রের মা বাড়িতে গোমাংস রান্না করে তাকে টিফিনে দিয়েছিলেন। টিফিন চলাকালীন ওই ছাত্র তাঁর এক হিন্দু বন্ধুকে গোমাংস খাওয়ার প্রস্তাব দেয়। হিন্দু ছাত্রটি তা খেতে অস্বীকার করলে, তাকে বলপূর্বক তা খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। উল্লেখ্য, আসামের আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত পরিসরে গোমাংস খাওয়া অনুমোদিত হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো উন্মুক্ত স্থানে তা গ্রহণযোগ্য নয়। সহপাঠীর এই ধরনের আচরণ স্বাভাবিকভাবেই কিশোরটির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানে এবং ঘটনার সূত্রপাত হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাড়ি ফিরে কিশোরটি তার বাবা-মাকে পুরো বিষয়টি জানালে অভিভাবকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রকে আটক ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া সহপাঠীদের বলপূর্বক গোমাংস খাওয়ানোর চেষ্টার অভিযোগে আরও তিনজন মুসলিম ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা কিশোরদের মানসিকতায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রতিফলন। যা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। এই ঘটনার পর থেকে স্কুল চত্বরে নজরদারি ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়েছে।