সায়নীর অকাল মৃত্যুতে বিদীর্ণ মা, প্রেমিকের চরম শাস্তির অপেক্ষায় পরিবার

মাত্র তেইশ বছর বয়সে কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়নী চক্রবর্তীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া কাটছে না। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে নিজের বাড়ি থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনা ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। মেয়ের মৃত্যুর জন্য সরাসরি তাঁর প্রেমিককে দায়ী করেছেন সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী। সন্তান হারানোর পর প্রথমবার সোশাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তিনি জানান, সায়নীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমেই আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
প্রেমিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
সায়নীর মা মলি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর পরপরই তাঁরা প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকলেও, মেয়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিচার চেয়েছেন শোকার্ত মা। লাইভে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেবল আইনি শাস্তিই নয়, এক অভাগা মায়ের অভিশাপ সেই ব্যক্তির ওপর বর্ষণ হবে। তাঁর কথায়, সায়নী বরাবরই প্রাণোচ্ছ্বল ও প্রতিভাবান ছিল, কিন্তু এই সম্পর্কের বিষবাষ্পই তাকে শেষ করে দিয়েছে।
পরিবারের ওপর নেমে আসা অমানবিক শোক
সায়নী কেবল পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন না, পোষ্যদের কাছেও ছিলেন প্রাণপ্রিয় বন্ধু। মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সায়নীর মৃত্যুর শোকে তাঁদের পোষ্যরাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এমনকি প্রিয় দিদিকে হারিয়ে সায়নীর একটি পোষ্যও সম্প্রতি মারা গিয়েছে। পরিবার ও পোষ্যদের এই করুণ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করা হয়েছে সেই সম্পর্ককেই। সায়নীকে হারানোয় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছে, তা থেকেই বিচারপ্রার্থী হয়েছেন মলি চক্রবর্তী।
এই ঘটনা সোশাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুলিশি তদন্তের ওপর আস্থা রেখে পরিবার এখন দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে।