ওমান উপকূলে ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু! মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে হামলা বন্ধের কড়া বার্তা ভারতের

ওমান উপকূলে ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু! মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে হামলা বন্ধের কড়া বার্তা ভারতের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়ল ওমান উপকূলে। আমেরিকার হামলায় একটি জাহাজে থাকা তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সামরিক হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।

ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা

চলতি সপ্তাহের পরপর কয়েকটি ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে উপসাগরীয় অঞ্চল। গত ৮ জুন থেকে শুরু করে তিনটি ভিন্ন জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যেগুলিতে বহু ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ৮ জুন ‘মারিভেক্স’ নামক একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ১০ জুন ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামক ট্যাঙ্কারে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারান, যেখান থেকে বাকি ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সর্বশেষ ১১ জুন ‘এমটি জলবীর’ জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও সৌভাগ্যবশত জাহাজের ২০ জন নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন।

এই ধারাবাহিক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ)-কে তলব করে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের ওপর এই ধরনের হামলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং ভারতের কাছে তাদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল সর্বাগ্রে।

সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য বিশ্ব প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ইরানের একের পর এক সামরিক পদক্ষেপ এবং তার জবাবে আমেরিকার বিমান হামলার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব বাণিজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের বাজারেও বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত ও ওমানের গভীর সমুদ্র পাইপলাইন উদ্যোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার কড়া কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে এবং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অবিলম্বে এই সংঘর্ষের অবসান না ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিপর্যয় নেমে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *