সায়নীকে দলে না টানতে মোদী-শাহের কাছে তথাগতর কাতর আর্জি!

তৃণমূল কংগ্রেসের যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে কোনোভাবেই যেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) নেওয়া না হয়, সেই আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বার্তা পাঠিয়েছেন দলের বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভগবান শিবের নাম স্মরণ করে তিনি এই অনুরোধ জানিয়েছেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
তথাগতর আপত্তির কারণ
ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় তাঁর আপত্তির পক্ষে বেশ কিছু পুরনো ঘটনার কথা সামনে এনেছেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি দাবি করেছেন, অতীতে সায়নী ঘোষের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তাঁর ধর্মীয় ভাবাবেগে গভীরভাবে আঘাত করেছিল, যেখানে শিবলিঙ্গের ওপর কন্ডোম পরানোর একটি মিম শেয়ার করা হয়েছিল। এ ছাড়া তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারে সায়নীর গাওয়া একটি গান নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি তুলেছেন। এই সমস্ত বিতর্কিত বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই সায়নীকে কোনো অবস্থাতেই যেন বিজেপি দলে জায়গা না দেয়, সেই মর্মে শীর্ষ নেতৃত্বকে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
দলবদলের জল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের বৈঠকের খবরের পরেই এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওই বৈঠকে সায়নী ঘোষও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভার স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি জমা দেওয়া এবং বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের নতুন সমীকরণ ইঙ্গিত করছে। তবে তথাগত রায়ের মতো একজন প্রবীণ নেতার এই প্রকাশ্য আপত্তি ও অসন্তোষ বিজেপি নেতৃত্বের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিতর্কিত ভাবমূর্তি সম্পন্ন কোনো নেতাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, তা আগামী দিনে দলবদল সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।