মৌলবাদীদের নজরে এবার লালনের মাজার! সংসদে বিস্ফোরক অভিযোগ জামায়াত এমপির

ঢাকা: বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম প্রতীক কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের মাজার ও আশ্রম এবার মৌলবাদীদের নিশানায়। কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামির সাংসদ (MP) আমির হামজা বুধবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে লালন মাজারের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি— সংস্কৃতি এবং গান-বাজনার নামে লালন মাজারে দেদার অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদকের কারবার চলছে। ওই এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে তিনি প্রশাসনের তীব্র হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
জামায়াত এমপির এই মন্তব্যের পর থেকেই নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। কারণ, এর আগে ‘মাদকের কারবার চলছে’— ঠিক এই একই অজুহাত তুলে মাস খানেক আগে ঢাকার মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলি মাজারে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছিল জামায়াতে ইসলামির নেতা-কর্মীরা। পুলিশের উপস্থিতিতেই চলা সেই হামলায় অন্তত ৫০ জন জখম হয়েছিলেন। দেশ-বিদেশের নানা মহলের চাপের মুখে পরে ৩ জন জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেও কুমিল্লার হোমনায় ধর্ম অবমাননার ভুয়া অভিযোগ তুলে ৪টি মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছিল মৌলবাদীরা।
সংসদে জামায়াত সাংসদের এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, শুধু লালন মাজারই নয়, গোটা দেশকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাজার, দরবার শরিফ ও সুফি সাধকদের আস্তানায় লাগাতার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্র’। তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, মাজার-কেন্দ্রিক এই ধরনের হুমকি ও হামলা দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী। লালনের মাজারকে ঘিরে জামায়াত এমপির এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।