মাছ ভাজার আড়ালে বাগানবাড়িতে অন্ধকার জগৎ, দেগঙ্গার ‘শাহজাহান’ রবিউলকে ঘিরে চাঞ্চল্য

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় তৃণমূল নেতা রবিউল ইসলামের গ্রেপ্তারির পর থেকেই এলাকার একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়িকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দিনভর নির্জন থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই ওই বাগানবাড়িতে বাইরের লোকজনের আনাগোনা বাড়ত এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলত অসামাজিক কাজকর্ম। রবিউল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
মাছ ভাজার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ
অভিযোগ উঠেছে, ‘মাছ কাটা’ বা ‘মাছ ভাজা’র নাম করে স্থানীয় মহিলাদের ওই বাগানবাড়িতে ডেকে পাঠানো হতো। সন্ধ্যার পর বাগানবাড়িটির চরিত্র বদলে গিয়ে নিয়মিত মদের আসর বসত বলে দাবি এলাকাবাসীর। সন্দেশখালির ‘পিঠে ভাজা’ বিতর্কের মতো দেগঙ্গার ‘মাছ ভাজা’ এখন এলাকার অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এমনকি বাগানবাড়িতে মধুচক্র চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ, যদিও এসব দাবির সত্যতা এখনও প্রশাসনিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
দিনমজুর থেকে বিপুল সম্পত্তির মালিক
স্থানীয়দের দাবি, একসময়ের সাধারণ দিনমজুর রবিউল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শতাধিক বিঘা জমির অধিকারী। কৃষিজমির চরিত্র বদলে বিশাল ঝিল এবং বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরির নেপথ্যে তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল বলেই অভিযোগ। এলাকার প্রভাবশালী এই নেতার ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও, তাঁর গ্রেপ্তারি বাগানবাড়ির নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের পর্দাফাঁস করে দিয়েছে।
রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং ক্ষমতার বেপরোয়া ব্যবহারই এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে স্থানীয় স্তরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনা এলাকার সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।