মোদীর নতুন মাইলফলকের পর রাহুলের তোপ, ‘রাজনৈতিক নৈরাজ্যবাদী’ তকমা দিল বিজেপি

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে একটানা দীর্ঘতম সময় নির্বাচিত সরকারপ্রধান থাকার অনন্য নজির গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ৪ হাজার ৩৩৯ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন থাকার এই মাইলফলক স্পর্শ করার পরই দেশের জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের বিরোধ নতুন মাত্রা নিয়েছে। মোদীর এই সাফল্য উদযাপনের দিনেই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ ও অর্থনীতির প্রশ্ন
রেকর্ড গড়ার এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গরিব, কৃষক ও যুবসমাজের ওপর। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই না দিয়ে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি তুলেছে হাত শিবির। পাশাপাশি, মোদী সরকারের গত ১২ বছরের খতিয়ান প্রকাশ করে কংগ্রেস দাবি করেছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন না হয়ে কেবল প্রচারসর্বস্ব ঘোষণা হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা জবাব ও ‘নৈরাজ্যবাদী’ তকমা
কংগ্রেসের এই আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা ও প্রদীপ ভাণ্ডারী সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বিজেপি মুখপাত্র রাহুলকে ‘রাজনৈতিক নৈরাজ্যবাদী’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতি ও ১৪০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা বিরোধীরা সহ্য করতে পারছে না। রাহুলের ‘মহব্বত কি দুকান’-কে ‘ঘৃণার শোরুম’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপি অভিযোগ তোলে, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে তিনি সাধারণ মানুষকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মূলত দেশের পরপর নির্বাচনে জয় ও দীর্ঘস্থায়ী নীতি নির্ধারণই মোদীর এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকার প্রধান কারণ। তবে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড ও তাকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ আগামী দিনে ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে মেরুকরণ ও সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।