মমতা বন্দনা নাকি অন্য সমীকরণ! দেবের ভূমিকা ঘিরে জোরালো বিতর্ক

মমতা বন্দনা নাকি অন্য সমীকরণ! দেবের ভূমিকা ঘিরে জোরালো বিতর্ক

ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিগত লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা এবং পরবর্তীতে পুনরায় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। তবে গত ৭২ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ তাঁর বক্তব্য এবং কাজের মধ্যে এক স্পষ্ট ফারাক সামনে এনেছে, যা রাজনৈতিক মহলে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দেবের মুখে সৌজন্যের রাজনীতি বনাম বাস্তবের সমীকরণ

গত ৮ জুন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে তৃণমূল সাংসদদের উপস্থিত এবং পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে দেবের যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেব দাবি করেন, তিনি সৌজন্যের রাজনীতি করছেন এবং যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন, ততদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছেন। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের স্বার্থেই তিনি বিরোধীদের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে এই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে আসা ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথি অন্য গল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দেবের নামও রয়েছে।

রাজনীতির জটিল সমীকরণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দ্বিমুখী আচরণের নেপথ্যে রয়েছে নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন তথা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান রূপায়ণের তাগিদ এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্যের বার্তা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক ও নথিতে সই করার ঘটনা শাসক দলের অন্দরে দূরত্বের ইঙ্গিত বহন করে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দলবদল বা নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা আগামী দিনে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরের রাজনীতিতে বড় ধরনেরল রদবদল ঘটাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *