সোনা ও রুপোর দাম কমার ইঙ্গিত, আমদানি মূল্য নিয়ে কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ!

সোনা ও রুপোর দাম কমার ইঙ্গিত, আমদানি মূল্য নিয়ে কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ!

কেন্দ্রীয় সরকার সোনা এবং রুপোর আমদানি ভিত্তি মূল্য বা ‘বেস প্রাইস’ কমানোর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম সোনার বেস প্রাইস ৮০ ডলার কমিয়ে ১,৩৪৩ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতি কেজি রুপোর বেস প্রাইস একধাক্কায় ২৭৬ ডলার কমিয়ে ২,০৯২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবান এই ধাতু দুটির দাম সাধারণের নাগালে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বেস প্রাইস কমানোর কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিদেশ থেকে সোনা বা রুপো আমদানি করার সময় যে নির্দিষ্ট মূল্যের ওপর শুল্ক বা কর আরোপ করা হয়, তাকেই বেস প্রাইস বলা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যাতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম ঠিক করে কর ফাঁকি বা কালোবাজারি করতে না পারেন। সরকার এই ভিত্তি মূল্য কমিয়ে দেওয়ায় আমদানিকারকদের শুল্ক বাবদ খরচ অনেকটাই কমে যাবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলে গয়না ব্যবসায়ী ও পাইকাররা সরাসরি এই কম আমদানি খরচের সুবিধা পাবেন। এর ফলে আসন্ন উৎসব বা বিয়ের মরশুমে সাধারণ ক্রেতারা বেশ কিছুটা সস্তায় সোনা ও রুপো কেনার সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া, উৎপাদন খরচ কমায় ব্যবসায়ীদের লাভের অঙ্ক এবং বাজারে গয়নার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুচরো বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

বেস প্রাইস কমানো হলেও খুচরো বাজারে সোনার দাম রাতারাতি কমে যায় না, কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাজার, পণ্য বাজার এবং অন্যান্য করের ওপরও নির্ভরশীল। বর্তমানে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে শুক্রবার এমসিএক্স (MCX)-এ সোনা ও রুপোর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, অন্যদিকে খুচরো বাজারে দাম কমার প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যেমন, কলকাতায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম কিছুটা কমে ১৩,৬২০ টাকা এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১৮,৮৫৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে রুপোর দামও কমেছে। সামগ্রিকভাবে, বেস প্রাইস কমানোর এই সিদ্ধান্ত সোনা-রুপোর ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতা—উভয় পক্ষের জন্যই এক বড় স্বস্তির খবর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *