দিল্লিতে তৃণমূলের ২০ সাংসদ বিদ্রোহী, অপারেশন লোটাসের এপিসেন্টার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি!

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্রমশ চওড়া হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ফাটল। ইতিমধ্যেই দলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন এবং রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ৩ জন। আর বঙ্গ রাজনীতির এই মহানাটকীয় পালাবদলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লির মোতিলাল নেহেরু মার্গে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে, ঠিক তখনই তাঁর নাকের ডগায় দলের সাংসদরা এই বাসভবনে গোপন বৈঠক সারছেন বলে খবর।
বিদ্রোহী সাংসদদের গোপন বৈঠক
তৃণমূলের বিশ্বস্ত সাংসদ কীর্তি আজাদের দাবি, তৃণমূল ভেঙে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’ চালানোর মূল কারিগর ভূপেন্দ্র যাদব। জানা গিয়েছে, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, রাজ্যসভার পদত্যাগী সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়-সহ অন্তত ১৪ জন বিদ্রোহী সাংসদ ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। পরবর্তী পর্যায়ে সায়নী ঘোষ, মালা রায় এবং মিতালি বাগও ওই একই ঠিকানায় বৈঠক করেন বলে জানা গিয়েছে। মূলত এই বাসভবন থেকেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা প্রস্তুত করছেন।
ভাঙনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিজেপির অন্দরে অন্যতম ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত ভূপেন্দ্র যাদব বাংলার নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সুবাদে বাংলার রাজনীতি ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পরিচয় রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হারের পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ডামাডোলের সুযোগ নিয়েই বিকল্প প্ল্যাটফর্ম খোঁজা সাংসদদের এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এই ‘অপারেশন লোটাস’ চূড়ান্ত সফল হলে সর্বভারতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং একইসঙ্গে লোকসভা ও রাজ্যসভায় একধাক্কায় অনেকটাই শক্তি বৃদ্ধি পাবে এনডিএ শিবিরের।