অধরা মাধুরীর খোঁজে স্বপ্নের আমেরিকা পাড়ি রোনাল্ডোর, ট্রফি জয়ের চাপ এড়াতে কৌশলী সিআর সেভেন

বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট পুরোদমে শুরু হয়ে গেলেও পর্তুগাল দল এতোদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। অবশেষে শুক্রবার এক আকাশ স্বপ্ন ও অনন্ত আশাবাদ নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল পর্তুগিজ বাহিনী। সমগ্র ফুটবলবিশ্ব পর্তুগালকে খেতাব জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করলেও, দলের ওপর অহেতুক ফেভারিট ট্যাগলাইনের চাপ চাপাতে নারাজ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। দেশ ছাড়ার আগে তিনি সাফ জানিয়েছেন, চাপের মুখে যারা নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে, তারাই আসল চ্যাম্পিয়ন।
সোনার দল বনাম রোনাল্ডোর শেষ সুযোগ
চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগাল সর্বকালের অন্যতম সেরা ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে মাঠে নামছে। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্ডেজ, নুনো মেন্ডেস, জোয়াও ক্যানসেলো, বার্নার্ডো সিলভা, জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিয়াও ও জোয়াও নেভেসের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে এবারের পর্তুগাল দলটিকে ‘সোনার টিম’ বলা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একচল্লিশ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা। বিশ্ব ফুটবলের সম্ভাব্য সব ট্রফি জিতলেও সিআর সেভেনের ক্যাবিনেটে কেবল বিশ্বকাপটিই অধরা রয়ে গেছে। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে এবারই তাঁর সেই পরম আরাধ্য ট্রফি ছোঁয়ার এবং ফুটবলে নিজের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার শেষ সুযোগ।
চাপ সামলানোর কৌশল ও সম্ভাব্য প্রভাব
কঠিন পরিশ্রম এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর জয় পর্তুগাল শিবিরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তবে রোনাল্ডো মনে করেন, নক-আউট পর্বের আসল চাপের মুখে পড়ার পরেই দলের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পাবে। বিশ্বজয়ী হওয়ার জন্য অনেকগুলো নিয়ামকের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। তাই শুরুতেই বড় লক্ষ্য নির্ধারণ না করে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
পর্তুগিজ অধিনায়কের এই শান্ত ও বাস্তবসম্মত মানসিকতা দলের তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর থেকে প্রত্যাশার চাপ কমাতে সাহায্য করবে। আগামী ১৭ জুনের প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই এখন পর্তুগালের মূল লক্ষ্য। প্রথম ম্যাচগুলোতে জয় পেলে দলের ছন্দ যেমন মসৃণ হবে, ঠিক তেমনি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে আত্মবিশ্বাস; যা টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত তাদের ট্রফি জয়ের দৌড়ে টিকিয়ে রাখতে পারে।