তৃণমূলে মেগা ভাঙন, স্পিকারের কাছে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ২০ বিদ্রোহী সাংসদ!

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন অব্যাহত। এবার দলের অন্তত ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে চলেছেন। আগামী সোমবার দিল্লিতে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই রবিবার বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে একটি মেগা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা ঋজু দত্ত।
এনডিএ-কে সমর্থন ও রাজনৈতিক প্রভাব
ঋজু দত্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না। বরং তাঁরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি পৃথক ব্লক তৈরি করে বাইরে থেকে এনডিএ জোটকে সমর্থন জানাবেন। এই ব্লকে শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া এবং সায়নী ঘোষের মতো পরিচিত সাংসদরাও রয়েছেন। সরাসরি দলে না টেনে বাইরে থেকে সমর্থন আদায়ের এই কৌশলে আখেরে লাভবান হচ্ছে বিজেপি এবং জাতীয় স্তরে শক্তিশালী হচ্ছে এনডিএ জোট।
পরাজয় ও অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের জের
তৃণমূলের এই ধারাবাহিক পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয় এবং অন্দরে জমে থাকা দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ। বিদ্রোহী নেতাদের অভিযোগ, দলে থাকার সময় তাঁদের কোনো মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই বিধানসভায় দলের নির্দেশ অমান্য করে ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা বেছে নিয়েছেন। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো নেতারা ইস্তফা দিয়ে এনডিএ-র পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। রাজ্য ও জাতীয় স্তরে দলত্যাগের এই ডমিনো এফেক্টে চরম সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।