ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ৫ ঘণ্টার পুলিশি অভিযান, নেপথ্যে আপ্তসহায়কের খোঁজ

ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ৫ ঘণ্টার পুলিশি অভিযান, নেপথ্যে আপ্তসহায়কের খোঁজ

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ভোররাতে আচমকা হানা দিল পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ শালবনি থানার পুলিশের একটি বিশাল দল শনিবার ভোর ৩টে নাগাদ তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং টানা প্রায় ৫ ঘণ্টা তল্লাশি অভিযান চালায়। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তল্লাশি শেষে সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ সুমিত রায়ের সন্ধান না পেয়েই সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ ও সুমিত রায়ের খোঁজ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি আর্থিক তছরুপের মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন দেখাচ্ছিল অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে। সেই সূত্র ধরেই শালবনি থানার পুলিশ রাতে রওনা দিয়ে ভোর ৩টে নাগাদ সাংসদের বাড়িতে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ও তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তদন্তকারীরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য ও হেনস্থার অভিযোগ

এই অভিযানের খবর পেয়ে ভোররাতেই অভিষেকের বাড়িতে ছুটে আসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সকাল ৮টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেও সংবাদমাধ্যমের কাছে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অভিযান শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ জোরপূর্বক বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং পুরো বাড়ি তছনছ করে তল্লাশি চালায়। কোনো কিছু না পেয়েও এই অভিযান চালানো হয়েছে দাবি করে তিনি একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা বলে উল্লেখ করেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপের মুখে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর সই-জালিয়াতি কাণ্ড এবং সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর তাঁর আপ্তসহায়কের খোঁজে এই পুলিশি অভিযান তাঁর ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *