খরগোশকে পিছনে ফেলে বাজিমাত সুদীপের, তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকে নয়া সমীকরণ!

খরগোশকে পিছনে ফেলে বাজিমাত সুদীপের, তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকে নয়া সমীকরণ!

রাজনীতির ময়দানে যেন আক্ষরিক অর্থেই কচ্ছপ ও খরগোশের গল্পের পুনরাবৃত্তি ঘটল। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সবার আগে সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, সেখানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ব্লকের নেতৃত্বভার কার্যত প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই উঠতে চলেছে। শারীরিক অসুস্থতা ও দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে এতদিন দূরে সরিয়ে রাখা এই সাতবারের সাংসদ হঠাৎ করেই সামনের সারিতে চলে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাঁর সঙ্গে উপ-দলনেতা হিসেবে শতাব্দী রায়ের নাম উঠে আসছে।

নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ ও সুদীপের নাটকীয় প্রবেশ

এই আকস্মিক পরিবর্তনের মূল কারণ হলো বিদ্রোহী ব্লকের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ। গত ৮ জুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে স্থির হয়েছিল যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বেই স্পিকারের কাছে সই জমা দেওয়া হবে। কিন্তু ব্লকের বেশ কয়েকজন সাংসদ তাঁকে নেতা হিসেবে মানতে অস্বীকার করেন। এই সুযোগেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোটা চিত্রনাট্যে প্রবেশ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার অন্যান্য বিদ্রোহী সাংসদদের আড়ালে শতাব্দী রায়কে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন, যা গোটা সমীকরণকে রাতারাতি পাল্টে দেয়।

দিল্লিতে চূড়ান্ত বৈঠক ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

রবিবার দিল্লিতে বিদ্রোহী নেতাদের নিজেদের মধ্যে এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই পদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পর সোমবার তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সশরীরে প্রস্তাব পেশ করবেন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই এই বিদ্রোহী ব্লকে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র সহ মাত্র আটজন সাংসদ এখনও পুরনো শিবিরে রয়েছেন। সোমবার স্পিকারের কাছে চূড়ান্ত চিঠি জমা পড়ার পরই এই বিভাজনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে, যা জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *