ইউরোপ সফরে মোদী, ফ্রান্সে বড় উদ্যোগের পাশাপাশি নজর ঐতিহাসিক স্লোভাকিয়া সফরে

ইউরোপ সফরে মোদী, ফ্রান্সে বড় উদ্যোগের পাশাপাশি নজর ঐতিহাসিক স্লোভাকিয়া সফরে

বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া—এই দুই দেশের সফরে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরে তিনি ফ্রান্সের নিস শহরে ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন, এভিয়ানে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং সবশেষে প্যারিসের ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন। তবে এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো স্লোভাকিয়া ভ্রমণ। ১৯৯৩ সালে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সেখানে পা রাখছেন, যা এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক মাত্রা দিয়েছে।

কূটনৈতিক জোর ও ঐতিহাসিক স্লোভাকিয়া সফর

ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং অত্যন্ত গভীর। সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ফ্রান্সের নিস-এ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ভারত সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক ‘বিশেষ বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে গত কয়েক মাসের অগ্রগতির পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন স্লোভাক রিপাবলিকে। সেখানে প্রেসিডেন্ট পেলেগ্রিনি এবং প্রধানমন্ত্রী ফিকোর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-EU Free Trade Agreement) আবহে এই সফর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বমঞ্চে ভারত

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়ন। ‘ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষের’ অংশ হিসেবে নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানটি ভারতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করবে। এছাড়া সফরের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে ইউরোপের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ যোগ দেবেন। এবারের সম্মেলনে ভারতের প্যাভিলিয়নটি হবে সবচেয়ে বড়, যা ভারতীয় ও ইউরোপীয় উদ্ভাবনী খাতের মধ্যে অংশীদারিত্বের এক বিশাল রূপরেখা তৈরি করবে।

জি৭ সম্মেলন ও গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৬ ও ১৭ জুন এভিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। এই নিয়ে পরপর আটবার জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রমাণ। এই সম্মেলনে ভারত কেবল নিজের অবস্থানই তুলে ধরবে না, বরং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উন্নয়নশীল দেশগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বহুমুখী সফরের ফলে একদিকে যেমন ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গভীর হবে, অন্যদিকে ‘ভারত ইনোভেটস’ এবং ‘ভিভাটেক’-এর মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ খাতের সামনে বিশ্ববাজারের নতুন দরজা খুলে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *