আইনি প্যাঁচ এড়াতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বড় চাল! অস্তিত্বহীন দলে মিশে এনডিএ-র পথে কাকলিরা

আইনি প্যাঁচ এড়াতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বড় চাল! অস্তিত্বহীন দলে মিশে এনডিএ-র পথে কাকলিরা

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এবার এক আনকোরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবির। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চার বছরের পুরনো ত্রিপুরার দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। স্পিকারের বাসভবনে গিয়ে চিঠি দেওয়ার পর তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ জোটের হয়ে কাজ করতেই তাঁদের এই অভিনব পদক্ষেপ।

পৃথক ব্লকের বদলে নতুন দলে অন্তর্ভুক্তি

প্রাথমিকভাবে বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় তৃণমূলের মূল অংশ থেকে আলাদা একটি ব্লক তৈরি করে এনডিএ-কে সমর্থনের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একই রাজনৈতিক দলের দুটি পৃথক ব্লক থাকতে পারে না। এই নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার আর্জি জানান। দলত্যাগ বিরোধী আইন ও এই আইনি প্যাঁচ এড়াতেই তড়িঘড়ি ২০২২ সালে তৈরি হওয়া প্রায় অস্তিত্বহীন দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।

রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিদ্রোহী সাংসদদের এই মাস্টারস্ট্রোকের প্রভাব সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পড়তে চলেছে। সাংসদরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে এনসিপিআই-এর নতুন দলীয় কার্যালয় খোলা হবে। একদিকে যখন তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে কানঘুষো শোনা যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই শাসকদলের ২০ জন সাংসদের দল ছেড়ে বেরিয়ে সরাসরি এনডিএ-র অংশ হওয়ার এই প্রয়াস যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। স্পিকার এই আবেদনে সাড়া দিলে লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি যেমন এক ধাক্কায় অনেকটা কমবে, তেমনই সর্বভারতীয় স্তরে এনডিএ জোটের সাংসদ সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *