শান্তির দোরগোড়ায় মধ্যপ্রাচ্য, ইজরায়েল-ইরান সংঘাত থামাতে মরিয়া ট্রাম্প!

শান্তির দোরগোড়ায় মধ্যপ্রাচ্য, ইজরায়েল-ইরান সংঘাত থামাতে মরিয়া ট্রাম্প!

সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইজরায়েল ও লেবানন-ইরান অক্ষের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে কি শান্তির সুবাতাস বইতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যে? দীর্ঘদিনের বারুদ, রক্ত আর মৃত্যুর অবসান ঘটাতে এবার সরাসরি মধ্যস্থতায় নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। “আমরা শান্তির দোরগোড়ায়” — ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা এবং ইরানের ইতিবাচক সাড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটতে চলেছে। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের কারণে লেবাননে এ পর্যন্ত ৩,৭৮৩ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন সাড়ে এগারো হাজারেরও বেশি মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক বিপর্যয়ই মূলত উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছে।

সমঝোতার খসড়া ও তিন প্রধান শর্ত

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এই সমঝোতা অবশ্যই ইরানের জন্য সম্মানজনক হতে হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিতে মূলত তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং সেখানে স্বাধীন নৌচলাচল নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয়ত, আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং অতীতে বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হবে, যার ফলে ইরান বিশ্ববাজারে পুনরায় তেল বিক্রি করতে পারবে। তৃতীয়ত, এর বিনিময়ে ইরান কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না, তবে বেসামরিক উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারবে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিক এই খসড়া চুক্তি সই হওয়ার পর, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত চুক্তি সই করবে। এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্পন্ন হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। শর্তানুযায়ী, চুক্তির পর ইরান বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও সামরিক সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে, যা সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে তাদের অন্যতম প্রধান মিত্রশক্তি সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা প্রক্রিয়া সারতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন স্থিতিশীলতা আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *