পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভাঙলেন দীপ্তি, বিশ্বকাপে ৬৪ রানে জয়ী ভারতের মেয়েরা!

পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভাঙলেন দীপ্তি, বিশ্বকাপে ৬৪ রানে জয়ী ভারতের মেয়েরা!

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত দাপট দেখাল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। জবাবে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ ভারতীয় স্পিন আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এবং ১৭ ওভারে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে যায়।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলে স্মৃতি-হরমনপ্রীতের দাপট

পাওয়ার প্লে-তে শেফালি ভার্মা ও জেমিমা রদ্রিগেজের দ্রুত বিদায়ে ভারতীয় দল শুরুতে কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে তৃতীয় উইকেটে স্মৃতি মান্ধানা এবং অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের ৯১ রানের অনবদ্য জুটি ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ৯টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৪৪ বলে ৬৮ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন স্মৃতি মান্ধানা। শেষদিকে উইকেটকিপার ব্যাটার রিচা ঘোষের আগ্রাসী ব্যাটিং ভারতের স্কোরকে ১৭১-এর নিরাপদ ঘরে পৌঁছে দেয়। পাকিস্তানের বোলাররা শুরুতে চাপ তৈরি করলেও তাদের ফিল্ডারদের জঘন্য পারফরম্যান্স এবং একের পর এক ক্যাচ হাতছাড়ার খেসারত দলটিকে দিতে হয়েছে।

স্পিন জাদুতে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে একমাত্র ওপেনার মুনিবা আলি ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটারই লড়াইয়ে টিকতে পারেননি। মুনিবা ৩৫ বলে ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকিদের কাছ থেকে কোনো যোগ্য সঙ্গ পাননি। দলের মাত্র চারজন ব্যাটার দুই অঙ্কের রান ছুঁতে সক্ষম হন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন স্পিনার দীপ্তি শর্মা, যিনি একাই ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত গুঁড়িয়ে দেন। এছাড়া শ্রী চরণি ৩টি এবং শেফালি ভার্মা ১টি উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সুগম করেন।

পাকিস্তানের এই শোচনীয় হারের মূল কারণ তাদের দুর্বল ফিল্ডিং এবং ভারতীয় স্পিনারদের মোকাবিলায় ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা। অন্যদিকে, এই দাপুটে জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি ১৬টি লড়াইয়ের মধ্যে ১৩টিতেই জিতে ভারত তাদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রমাণ করল। প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের যে লক্ষ্য নিয়ে ভারত এবার মাঠে নেমেছে, এই শক্তিশালী শুরু তাদের সেই লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *