দিল্লিতে বিরাট রাজনৈতিক ফাটল! আরএসএস ঘনিষ্ঠ দলে তৃণমূলের ২০ সাংসদ

দিল্লিতে বিরাট রাজনৈতিক ফাটল! আরএসএস ঘনিষ্ঠ দলে তৃণমূলের ২০ সাংসদ

রবিবাসরীয় দিল্লিতে নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরল। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব এবং সায়নীর মতো ২০-২২ জন হেভিওয়েট সাংসদ ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দিচ্ছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর এনডিএ শিবিরকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল

বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, এই ২২ জন সাংসদ লোকসভায় তৃণমূলের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হবে না এবং তাঁরা সহজেই নতুন সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। অন্যদিকে, এই ভাঙন রুখতে পাল্টা পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারকে দ্রুত চিঠি দিয়ে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে আলাদা সংসদীয় দলের স্বীকৃতি দিতে নিষেধ করেছেন।

আরএসএস যোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০২৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা আঞ্চলিক দল এনসিপিআই-এর নির্বাচনী প্রতীক একটি ফাউন্টেন পেনের নিব। বাংলা ও ত্রিপুরায় এই দলের ভিত্তি রয়েছে। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় স্তরের নেতা শান্তনু দে নিজেকে সরাসরি আরএসএস কর্মী বলে দাবি করেন। আগাগোড়া তৃণমূল-বিরোধী আদর্শে চলা এই দলে ঘাসফুলের বিক্ষুব্ধদের হঠাৎ যোগদান নিয়ে অবশ্য খোদ শান্তনুই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দলের অন্দরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও মতানৈক্যই এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের মূল কারণ। এর ফলে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় ধাক্কা খাবে এবং লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবির আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *