পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ট্যাবলেটে আসবে প্রশ্ন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপে ভারতীয় রেল

দেশজুড়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে বড় শিক্ষা নিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেলের আসন্ন মেগা নিয়োগ পরীক্ষাগুলিকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরাপদ ও ‘লিক-প্রুফ’ করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। হ্যাকিং এবং ডিজিটাল লিক পুরোপুরি রুখতে এবার সাধারণ ইন্টারনেট বা বেসরকারি ক্লাউড সার্ভারের বদলে রেললাইনের নিচ দিয়ে ছড়ানো নিজস্ব অপটিক্যাল ফাইবার কেবল নেটওয়ার্ক এবং সুরক্ষিত অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট ব্যবস্থা ‘রেলনেট’ (RailNet) ব্যবহার করা হবে। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হতে চলা সমস্ত পরীক্ষার আয়োজন এবার থেকে রেল সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করবে।
কম্পিউটারের বদলে আসছে ‘ট্যাবলেট বেসড টেস্ট’
রেলমন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলের নিয়োগ পরীক্ষাগুলি প্রচলিত কম্পিউটার বেসড টেস্ট (CBT) মোড থেকে পরিবর্তিত হয়ে ট্যাবলেট বেসড টেস্ট (TBT) মোডে রূপান্তরিত হতে চলেছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগে কোনও অনলাইন সার্ভারে মজুত থাকবে না। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক পাঁচ মিনিট আগে সম্পূর্ণ ইনক্রিপ্টেড বা সাংকেতিক ভাষায় ওএফসি (OFC) লাইনের মাধ্যমে প্রশ্ন সরাসরি পরীক্ষা কেন্দ্রের মাস্টার হাবে আসবে এবং সেখান থেকে পরীক্ষার্থীর ট্যাবলেটের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। এই পরীক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মানদণ্ড মেনে তৈরি লাখ লাখ হাইটেক ট্যাবলেট কেনার একটি ফাইল ইতিমধ্যেই আর্থিক মঞ্জুরির জন্য পাঠানো হয়েছে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণ ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকবে, তাই প্রশ্নপত্র হ্যাক করা বা পরীক্ষা শুরুর আগে তা ফাঁস হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
বন্ধ হচ্ছে বেসরকারি কেন্দ্র, তৈরি হচ্ছে স্বাধীন উইং
নতুন এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে রেলের নিজস্ব পরিকাঠামোর ভেতরেই একটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বা স্বাধীন পরীক্ষা পরিচালন উইং গঠন করা হচ্ছে। এই সংস্কারের বড় অংশ হিসেবে রেলের পরীক্ষায় এবার থেকে কোনও প্রাইভেট বা বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্র ব্যবহার করা হবে না। পরীক্ষা গ্রহণের জন্য দেশজুড়ে রেলের নিজস্ব হাজার হাজার বড় হল, খালি পড়ে থাকা বিশাল সেন্ট্রাল স্কুল, রেলওয়ে কমিউনিটি সেন্টার এবং বড় বড় ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্স ব্যবহার করা হবে।
রেলওয়ে বোর্ডের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশজুড়ে সেফটি ক্যাটাগরি (যেমন- লোকো পাইলট, স্টেশন মাস্টার, ট্র্যাক ক্রু) এবং নন-টেকনিক্যাল (NTPC) মিলিয়ে প্রায় ২.৫ লাখেরও বেশি শূন্যপদে ধাপে ধাপে মেগা-নিয়োগ হতে চলেছে। বিপুল সংখ্যক এই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকিমুক্ত পরীক্ষা পরিবেশ তৈরি করাই রেলের এই আধুনিকীকরণের মূল কারণ ও লক্ষ্য।