দু’বার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত কামব্যাক, ডাচদের রুখে দিল অদম্য জাপান!

দু’বার পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত কামব্যাক, ডাচদের রুখে দিল অদম্য জাপান!

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান যে কেবলই একটি সংখ্যা, তা আরও একবার প্রমাণ করল জাপান। ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ২-২ গোলে আটকে দিল ‘সামুরাই ব্লু’রা। ম্যাচে দু’বার পিছিয়ে পড়েও জাজল ফুটবলারদের হার না মানা মানসিকতা এবং নজরকাড়া প্রত্যাবর্তনের ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় ডাচ শিবির। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের আক্রমণাত্মক ফুটবল মাঠের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ম্যাচের ৫১ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্চের নিখুঁত ক্রস থেকে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের হেডে প্রথম লিড পায় নেদারল্যান্ডস। তবে ডাচদের এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় কেইতো নাকামুরার বাঁ দিক থেকে করা এক দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরায় জাপান। ৬৪ মিনিটে গ্রাভেনবার্চের পাসে ক্রিসেনসিও সামারভিল গোল করে নেদারল্যান্ডসকে ফের এগিয়ে দিলেও দমে যায়নি জাজলরা। পিছিয়ে পড়ার পর ডাচ রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে তুমুল চাপ সৃষ্টি করে তারা। এই নিরলস আক্রমণের ফলস্বরূপ ম্যাচের ৮৮ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে কোকি ওগাওয়ার হেড ছুঁয়ে দাইচি কামাদা বল জালে জড়িয়ে দেন। জাপানের এই দুর্দান্ত গতি ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাই মূলত নেদারল্যান্ডসের নিশ্চিত জয় রুখে দেওয়ার প্রধান কারণ।

এশিয়ার দাপট ও টুর্নামেন্টে প্রভাব

এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে দুই দলই এক পয়েন্ট করে অর্জন করল, যা ‘এফ’ গ্রুপের সমীকরণকে প্রথম থেকেই বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের মতো শক্তিধর দলকে হারিয়ে যে চমকের সূচনা করেছিল জাপান, এই ম্যাচ প্রমাণ করল তা কোনো অঘটন ছিল না। বড় মঞ্চে ইউরোপীয় জায়ান্টদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করার এই সক্ষমতা পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে জাপানের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। এর পাশাপাশি, চলতি বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার জয় এবং জাপান ও কাতারের পিছিয়ে পড়েও ড্র আদায় করে নেওয়া প্রমাণ করে যে বিশ্ব ফুটবলে এশিয়ার দলগুলো ক্রমশ নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *