প্রযুক্তি ব্যবহারের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে ভারত! ফ্রান্সের মঞ্চে দৃপ্ত বার্তা মোদীর

ফ্রান্সের নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেশন’ মঞ্চ থেকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত এখন আর কেবল অন্য দেশে তৈরি হওয়া প্রযুক্তির উপভোক্তা বা ব্যবহারকারী নয়, বরং বিশ্বের বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে সমাধানের পথ দেখাচ্ছে। ১৪০ কোটি দেশবাসীর হয়ে তাঁর এই বার্তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের আত্মনির্ভরশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতারই এক জোরালো প্রতিফলন।
ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক ও উদ্ভাবনী প্রভাব
ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে কেবল কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই সম্পর্ককে ‘সংযোগ ও বিশ্বাস’-এর এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন, ‘ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স’ থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)—সর্বত্রই উভয় দেশ মানবজাতির স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের স্টার্ট-আপ বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ভারতের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবন আজ গোটা বিশ্বের উন্নত ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করছে। এর ফলে ভারতীয় প্রতিভা ও ইউরোপীয় পুঁজির মধ্যে এক মজবুত সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ম্যাক্রোঁর প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
ভারতের এই অভাবনীয় প্রযুক্তিগত উত্থানকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা স্মরণ করে তিনি বিশ্বমঞ্চে ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অসীম ক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানান তিনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই সম্মেলন এবং দুই রাষ্ট্রনেতার এই বোঝাপড়া আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।