মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বদলাননি শুভেন্দু! শাহ-বৈঠকের পরই অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুদীপ

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বদলাননি শুভেন্দু! শাহ-বৈঠকের পরই অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুদীপ

রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমীকরণ যে বদলায়নি, তা ফের স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা গেল এই বর্ষীয়ান নেতাকে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পুরনো সম্পর্কের স্মৃতিচারণ ও হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রেখেছেন, তা অকপটে স্বীকার করেছেন সুদীপ। তাঁর কথায়, ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেও শুভেন্দু নিজে থেকে ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। অধিকারী পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, একসময় লোকসভায় তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁদের দুজনের সচিবও একই ব্যক্তি ছিলেন। আগামী দিনে হকার উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে সুদীপের। তবে এই পদক্ষেপে যাতে গরিব মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়, সেই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিতে চান। শুভেন্দুর ইতিবাচক মনোভাবের কারণে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

দিল্লিতে শাহ-সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক প্রভাব

শুভেন্দুর প্রশংসার পাশাপাশি দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় ৭০ মিনিটের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা তৈরি করেছে। বৈঠকের সব তথ্য প্রকাশ্যে না আনলেও, তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের ওপর পচা ডিম ছোড়ার ঘটনাটি তিনি শাহর নজরে এনেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি যে যথেষ্ট মুগ্ধ, তা স্পষ্ট করেছেন এই বিক্ষুব্ধ সাংসদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদীপের মতো একজন বর্ষীয়ান ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতার প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা এবং অমিত শাহর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনাগুলোর মূল কারণ হলো নিজস্ব দলের ভেতরের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের সন্ধান। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে একদিকে যেমন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও প্রকট হচ্ছে, তেমনই শাসক শিবিরের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ নেতাদের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দিনে এই ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল বা নতুন রাজনৈতিক জোটের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *