কলকাতায় পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে ওয়ার্ড, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পুরভোট!

আগামী ছয় মাসের মধ্যেই তথা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পুরভোট। নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করার পরেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুরনিগমে বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে এবং নাগরিকদের ভোটাধিকারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সোমবার তিনি জানান, ডিলিমিটেশনের পর একটি নতুন পুরবোর্ড গঠন করার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
ভোটের সংখ্যা ও বুথ বণ্টনে বড় অসামঞ্জস্য
ভবানীপুরের বর্তমান বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই ডিলিমিটেশনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, কলকাতার বর্তমান ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ভোটার এবং বুথ সংখ্যার ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে যেখানে ৪৯টি বুথ রয়েছে, সেখানে অন্যান্য কিছু ওয়ার্ডে ২০টিরও কম, এমনকি ১৫ থেকে ১৬টি বুথ রয়েছে। আবার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডটি আকারে বিশাল বড়। একটি সুষম প্রশাসনিক কাঠামো এবং অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে এই বিশাল বৈষম্য দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
কলকাতা পুরনিগমের মেয়রের পদত্যাগের পর সেখানে বর্তমানে একটি প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পুরসভার দৈনন্দিন কাজ সচল রাখতে রাজ্য সরকার আপাতত সেখানে পুর-প্রশাসক নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছে সরকার। নতুন এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সুপারিশ রাজ্য সরকার করলেও চূড়ান্ত দায়িত্ব পালন করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সাময়িকভাবে কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব বিধায়কদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া কলকাতার সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তবে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে শহরের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।