আতঙ্কের আর এক নাম ‘পিকে’ সহ উত্তর ২৪ পরগনায় পুলিশের জালে তিন হেভিওয়েট দুষ্কৃতী!

আতঙ্কের আর এক নাম ‘পিকে’ সহ উত্তর ২৪ পরগনায় পুলিশের জালে তিন হেভিওয়েট দুষ্কৃতী!

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা জুড়ে অপরাধ দমনে বড়সড় সাফল্য পেল ব্যারাকপুর কমিশনারেট ও বনগাঁ থানার পুলিশ। পৃথক তিনটি অভিযানে ভাটপাড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী শাহজাহান আলী ওরফে ‘পিকে’ সহ শাসকদলের এক যুব নেতা ও এক পঞ্চায়েত উপপ্রধানের স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজি, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

ভাটপাড়ায় পুলিশের জালে ত্রাস ‘পিকে’

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের অন্তর্গত ভাটপাড়া থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত দুষ্কৃতী শাহজাহান আলী ওরফে সিরাজ আহমেদ ওরফে ‘পিকে’-কে গ্রেফতার করেছে। ধৃত পিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারা ছাড়াও মারাত্মক অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাটপাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় খুন এবং তোলাবাজির একাধিক ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে কাজ করছিল এই পিকে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, পিকে-কে জেরার মাধ্যমে এই অঞ্চলের বড় কোনো অপরাধমূলক আন্তঃরাজ্য সিন্ডিকেটের হদিস মিলতে পারে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীদের দমন

অন্য একটি অভিযানে, বনগাঁ থানার পুলিশ কুড়ির মাঠ স্টেশন এলাকা থেকে রাজ যশোহারা নামে এক তৃণমূল যুব নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত রাজ বনগাঁর ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর পাপাই রাহার ঘনিষ্ঠ সাগরেদ বলে পরিচিত। গত ৬ এপ্রিল অস্ত্র সহ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা ছিল। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাকে সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

একইভাবে, জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেত্রী শুক্লা বিশ্বাসকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বাসুদেবপুর থানার পুলিশ পানপুর কেউটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সীমা বিবির স্বামী সফিক আলি ওরফে খোকন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। খোকনের বিরুদ্ধেও এলাকায় তোলাবাজির বহু পুরনো অভিযোগ রয়েছে। তাকেও ১০ দিনের হেফাজতে চেয়ে ব্যারাকপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এই ত্রিমুখী অভিযানের ফলে এলাকায় রাজনৈতিক হানাহানি ও তোলাবাজির প্রকোপ সাময়িকভাবে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *