এবার কুণাল ঘোষের ওপর ডিম হামলা, তীব্র চাঞ্চল্য!

এবার কুণাল ঘোষের ওপর ডিম হামলা, তীব্র চাঞ্চল্য!

রাজ্যের শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে ‘ডিম থেরাপি’র তালিকায় এবার যুক্ত হলো বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের নাম। সোমবার বিকেলে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের ঠিক সামনেই এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতেই আচমকা তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। চন্দন নামে এক স্থানীয় যুবক এই ঘটনার দায় স্বীকার করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও কুণালের পাল্টা হুঙ্কার

এই হামলার পেছনের মূল কারণ হিসেবে অভিযুক্ত যুবক ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, শাসকদলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েছে এবং এই শাস্তি বিধায়কের প্রাপ্য ছিল। তবে এই ঘটনার পর কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘জেড ক্যাটাগরি’ নিরাপত্তার মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ওপর ওঠা অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক জানান, কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তা পুলিশ করেছে, তার দায় তাঁর নয়। একই সঙ্গে “এক মাঘে শীত যায় না” বলে হামলাকারীদের পরোক্ষ হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘ডিম থেরাপি’র ট্রেন্ড

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া এক নতুন রাজনৈতিক প্রবণতার অংশ। এর আগে সোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে এই ডিম হামলার সূত্রপাত হয়েছিল, যার জেরে তাঁকে হাসপাতালেও যেতে হয়। এরপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের বিধায়ক, চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরদের ওপর একের পর এক এই ধরণের জনরোষ বা পরিকল্পিত হামলা দেখা যাচ্ছে। কালীঘাটের মতো অতি-সুরক্ষিত এলাকায় খোদ দলনেত্রীর বাড়ির সামনে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং ভিআইপিদের নিরাপত্তা বলয় পুনর্মূল্যায়নে প্রশাসনকে বাধ্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *