শুভেন্দুর ডাকে কলকাতা পুরসভায় মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী, হাজির ফিরহাদ-দেবাশিসও!

শুভেন্দুর ডাকে কলকাতা পুরসভায় মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী, হাজির ফিরহাদ-দেবাশিসও!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার কলকাতা পুরনিগমেও এক নজিরবিহীন সমীকরণের ছবি সামনে এল। একদিকে যখন পুরনিগমের তরফে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে দফায় দফায় নোটিস যাচ্ছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে, ঠিক তখনই পুরসভার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে হাজির হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ তথা তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু কাজরীদেবীই নন, তাঁর পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, জুঁই বিশ্বাসের মতো তৃণমূলের একঝাঁক হেভিওয়েট কাউন্সিলরকে আজ পুরনিগমের অন্দরে একাসনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে।

কলকাতা পুরনিগমে শুভেন্দুর ‘স্বচ্ছতা অভিযান’, আমন্ত্রিত সব দলের কাউন্সিলর

কলকাতা পুরনিগমে আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ কর্মসূচি উপলক্ষে এদিন সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমান রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দলমত নির্বিশেষে পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এদিন সকাল থেকেই পুরনিগমে একে একে হাজির হতে শুরু করেন বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরেরা, যা বর্তমান রাজনৈতিক আবহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

‘১৬ বছরে এই প্রথম’, মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের প্রশংসায় জুঁই

কলকাতা পুরসভার এই মেগা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলরেরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হেভিওয়েটদের প্রতিক্রিয়া ও পুরসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমি এই কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে রয়েছি। এই সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রী নিজে কর্পোরেশনে আসেননি। এই প্রথমবার কোনও মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে এসে কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিচ্ছেন। প্রশাসনিক স্তরে এটি নিঃসন্দেহে একটা অত্যন্ত বড় ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। শহরের উন্নয়নের স্বার্থে সব কাউন্সিলরই সরকারকে সহযোগিতা করবেন।”
  • বিভেদহীন রাজনীতির প্রশংসা: সমন্বয় রেখে কাজ করার বার্তা দিয়ে মমতার ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা এলাকার উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সম্পূর্ণ সহযোগিতা চাই, যাতে কাজ করতে কোনও অসুবিধা না হয়। অন্য দল হওয়া সত্ত্বেও উনি (মুখ্যমন্ত্রী) আমাদের মধ্যে কোনও বিভেদ করেননি। বিরোধীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ডেকেছেন। আশা করি আগামীদিনেও মুখ্যমন্ত্রীর টিমের কাছ থেকে সবরকমের সাহায্য আমরা পাব।”
  • প্রশাসনিক রদবদল: সম্প্রতি কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরনিগমে বর্তমানে নতুন প্রশাসক বসানো হয়েছে। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এখন সেখানে প্রধান প্রশাসক হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই সমস্ত কাউন্সিলরদের একমঞ্চে এনে সমন্বয়ের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *