টানা ১১ ঘণ্টা অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ ED-র, বেরিয়ে বললেন, ‘মাথা নত করব না’

টানা ১১ ঘণ্টা অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ ED-র, বেরিয়ে বললেন, ‘মাথা নত করব না’

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে টানা ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা শেষে সিজিও কমপ্লেক্সের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দফতর থেকে বেরোলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ নির্দিষ্ট সময়ে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর রাত ১০টা নাগাদ জেরা শেষে বাইরে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যত চাপই আসুক না কেন, তিনি কোনও অবস্থাতেই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবেন না।

পর পর তিন দিন জেরার মুখে, তাও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস

সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধীদের এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এড়ানোর কোনও মানসিকতা তাঁর নেই এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করেছেন।

তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার বিবরণগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • টানা জেরা: সোমবার প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে একটানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।
  • রবিবারের সিআইডি জেরা: এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার সই জালিয়াতি কাণ্ডেও রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র মুখোমুখি হয়ে প্রায় সাড়ে আট থেকে ৯ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন তিনি।
  • মঙ্গলবারের পরবর্তী তলব: এখানেই শেষ নয়, মঙ্গলবার উস্কানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় ফের তাঁকে তলব করেছে সিআইডি।
  • অতীতের হাজিরা: অভিষেক জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়েছেন, যার মধ্যে দিল্লিতে দুবার এবং ২০২৩ সালে শেষবার তাঁকে ডাকা হয়েছিল।

‘পশ্চিমবঙ্গকে বিরোধী শূন্য করার চক্রান্ত চলছে’, বিজেপিকে বেনজির আক্রমণ

জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তীব্র political আক্রমণ শানান অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে যারাই বিজেপির নীতি বা রাজনীতির বিরোধিতা করছে, তাদের সবার সঙ্গেই এই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে।

তৃণমূল নেতার বিস্ফোরক অভিযোগগুলির মূল দিক:

  • দল ভাঙানোর রাজনীতি: একদিকে সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের দল ভাঙানো হচ্ছে এবং অন্যদিকে এজেন্সিকে লেলিয়ে দিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।
  • বিরোধী শূন্য করার ছক: পশ্চিমবঙ্গকে পুরোপুরি বিরোধী শূন্য করার এবং বিরোধী নেতাদের জেলে ভরার এক গভীর চক্রান্ত চলছে।
  • ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি: প্রথমে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, তারপর ভোট লুট এবং সবশেষে ভোট পরবর্তী হিংসার নামে রাজ্যজুড়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে যাতে বিরোধীরা কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি না পায়। তবে সাংসদ ও বিধায়কদের এভাবে ভাঙিয়ে কোনও লাভ হবে না।

ভিত্তিহীন মামলা এবং যোগ্যদের চাকরি না পাওয়ার আক্ষেপ

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জড়ানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই মামলায় যাঁদের আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁরা তো এখন কেউই কারাবাস করছেন না, সবাই জামিনে মুক্ত হয়ে গিয়েছেন। তাহলে তদন্তের নামে এতদিন কী হলো?

চাকরিপ্রার্থীদের দূরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চেয়েছিলাম যাঁরা প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী তাঁরা যেন দ্রুত চাকরি পান। কিন্তু এই সরকার তা করেনি। ফলে কোনও প্রকৃত সমাধান সূত্র বের হয়নি এবং চাকরিপ্রার্থীরাও বঞ্চিত থেকে গিয়েছেন।” একই সাথে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগামী দিনেও তদন্তের স্বার্থে তাঁকে যখনই ডাকা হবে, তিনি এসে সবরকম সহযোগিতা করবেন, কিন্তু অন্যায়ের সামনে আপস করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *