নয়নাদি আমার প্রিয় বৌদি, শেষ পর্যন্ত আমার সাথে থাকুন! সুদীপকে তোপ দেগে কেন বললেন কুণাল?

নয়নাদি আমার প্রিয় বৌদি, শেষ পর্যন্ত আমার সাথে থাকুন! সুদীপকে তোপ দেগে কেন বললেন কুণাল?

চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিজের করা বিস্ফোরক মন্তব্য থেকে একচুলও পিছু হটছেন না বেলেঘাটার বিধায়ক তথা উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের নবনিযুক্ত সভাপতি কুণাল ঘোষ। সোমবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানান, উত্তর কলকাতার দলীয় সভাপতি হিসেবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কী, তা জানার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে। একই সাথে তিনি জানান, জেলা সভাপতি হিসেবে তিনি মন থেকে চান তাঁর ‘প্রিয় বৌদি’ শেষ পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গেই থাকুন। এই রেশ ধরেই নয়নার স্বামী তথা উত্তর কলকাতার সদ্য বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কুণাল।

‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ এবং মেকআপ বিতর্ক

দিন দুয়েক আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের দলে যোগ দেওয়ার পর কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়া মানে বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি। শুধু একজন পরচুলওয়ালা লোক নয়, তার সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার পাওয়া যাবে।” এই মন্তব্যে তীব্র ক্ষুব্ধ হন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নালিশ জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

নয়নার এই ক্ষোভের জবাবে কুণাল ঘোষ এদিন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন:

  • কূটনৈতিক দ্বিচারিতা: চারদিন আগে যখন কালীঘাটে সিআইডি গিয়েছিল, তখন সুদীপবাবু ফোন করে কুণালকে বলেছিলেন নয়না সেখানে যাচ্ছে। কিন্তু নয়না মমতাদির বাড়িতে না পৌঁছে সুদীপবাবু সটান দিল্লির বিজেপি নেতাদের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। কুণাল মূলত এই রাজনৈতিক ও নীতিগত দ্বিচারিতারই সমালোচনা করেছেন।
  • শপথ মনে করালেন কুণাল: কুণাল মনে করিয়ে দেন, কিছুদিন আগেই তিনি এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় হাতে হাত রেখে শপথ নিয়েছিলেন যে মমতাদিকে ছেড়ে কখনও যাবেন না। এখন নয়নাদি সেই শপথ রাখবেন কি না, সেটাই দেখার।
  • মেকআপ খোঁচা: বিউটি পার্লার মন্তব্য নিয়ে কুণাল বলেন, “আমি মেকআপ ছাড়া নয়নাদি আর মেকআপ নিয়ে নয়নাদি, পাশাপাশি দেখুন। দেখুন লোক চিনতে পারে কি না। আমি কাউকে আজেবাজে কথা বলিনি, এর মধ্যে কাহারও আসাম্মানের কিছু নেই।”

‘পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য’, সুদীপের কোটা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদলের পর নয়নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, “পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য। পতি তো এখন গিয়েছেন বিজেপির দিকে, তাহলে নয়নাদি কী করবেন? উত্তর কলকাতার সভাপতি হিসেবে আমি চাইব প্রিয় বৌদি আমার সঙ্গেই থাকুন, বাকিটা তাঁর ব্যাপার।”

এর পরেই সুদীপ ও নয়নার রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজস্ব কোনও রাজনৈতিক আলো নেই, তিনি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোতেই আলোকিত। সুদীপবাবুর কোটায় এবং আবদারেই নয়নাদি বারবার বিধায়ক হয়েছেন, যার ফলে দলের বহু যোগ্য মহিলা নেত্রী বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত হয়েছেন।

দলবদলু স্বামীর নালিশ নিয়ে তীব্র মস্করা

নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নালিশ করার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ চরম উপহাস করে জানান, নয়নাদির আগেই তাঁর স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার রাতে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির কাছে কুণালের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকেছেন।

কুণাল হাসতে হাসতে প্রশ্ন তোলেন:

“যে মানুষটি রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিলেন, তিনি একই রাতে আবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির কাছে আমার বিরুদ্ধে নালিশ পাঠান কীভাবে? আগে ওর বরকে জিজ্ঞাসা করুন উনি কোন দলে আছেন।”

সবশেষে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গদ্দার তকমা দিয়ে কুণাল মনে করিয়ে দেন, অতীতেও মমতাদির সঙ্গে গদ্দারি করে সুদীপবাবু যখন দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, এই কুণাল ঘোষই তখন কঠোর পরিশ্রম করে তাঁকে দলে ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ডিনারের রাতে সুদীপবাবু মমতাদির হাত ধরে কেঁদে ক্ষমা চেয়েছিলেন, সেই ইতিহাস যেন সুদীপবাবু এত সহজে ভুলে না যান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *