বুলডোজার আতঙ্কে রাতারাতি ভোলবদল! বারাসাতের তৃণমূল কার্যালয় এখন পূজো কমিটির অফিস

রাজ্যজুড়ে বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের আবহে বারাসাতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কেএনসি রোডের ধারে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সুপরিচিত কার্যালয় রাতারাতি তার রাজনৈতিক পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে। দীর্ঘদিনের পুরনো দলীয় সাইনবোর্ডটি সরিয়ে সেখানে এখন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘কেএনসি রেজিমেন্ট শ্যামাপুজো কার্যালয়’-এর ব্যানার। দখলমুক্ত অভিযানের এই মরশুমে এমন আকস্মিক পরিবর্তনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় রাজনীতি ও জনমানসে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কিত অতীত ও রাজনৈতিক ঠিকানা
তৃণমূল জমানায় কেএনসি রোডের ফুটপাথ লাগোয়া এলাকায় তৈরি হওয়া এই ঝাঁ-চকচকে কার্যালয়টি শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। ফুটপাথ দখল করে এই নির্মাণ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও, এতদিন এটিই ছিল বারাসাত শহরের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ঠিকানা। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন এই কার্যালয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তবুও এতদিন এই কার্যালয়ের দলীয় পরিচয় অপরিবর্তিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানের কড়াকড়ি শুরু হতেই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাতারাতি বদলে ফেলা হলো ভবনের পরিচয়।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভোলবদলের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে সরকারি উচ্ছেদ অভিযানের ভয় এবং আইনি জটিলতা এড়ানোর কৌশল। শহরের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হিসেবে পরিচিত ‘কেএনসি রেজিমেন্ট’। রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে থাকলে যা সহজেই বেআইনি দখলের আওতায় উচ্ছেদ হতে পারত, তাকে ক্লাবের পুজো কার্যালয় হিসেবে দেখিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য হামলা বা ভাঙচুর এড়ানো এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সম্পত্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ঠেকাতেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে এই বিষয়ে বারাসাত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কেএনসি রেজিমেন্ট ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা অশনি মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, জায়গাটি আদতে ক্লাবের এবং সেই কারণেই বিল্ডিংটি ক্লাবকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিচয় বদলের এই ঘটনাটি শহরের অন্যান্য বিতর্কিত বা বেআইনি রাজনৈতিক নির্মাণগুলোর ওপর প্রশাসনের নজরদারি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।