রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আগুনে ছারখার কিয়েভের একাদশ শতকের ঐতিহাসিক ক্যাথিড্রাল, নিহত ১১

রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আগুনে ছারখার কিয়েভের একাদশ শতকের ঐতিহাসিক ক্যাথিড্রাল, নিহত ১১

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের আছড়ে পড়ল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। তিন দিনের সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষবিরতি শেষ হতেই সোমবার রাতভর রক্তক্ষয়ী হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ। রাশিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবার পুড়ে খাক হয়ে গেল একাদশ শতকের ঐতিহাসিক ডরমিশন ক্যাথিড্রাল। এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। হামলার পরই কিয়েভের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং চারদিকে তীক্ষ্ণ সাইরেন ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে, যা বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ক্যাথিড্রালের ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতি

ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি ঐতিহাসিক ক্যাথিড্রালে আঘাত হানলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে প্রাচীন এই স্থাপত্যের ছাদটি মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। তবে স্বস্তির বিষয়, ভবনের মূল দেয়াল এবং ভেতরের প্রধান অংশটি বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় নিদর্শন আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় সেগুলো সুরক্ষিত রয়েছে।

হামলার কারণ ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও, এই হামলার মাধ্যমে পুতিন বাহিনী নিজেদের আগ্রাসী অবস্থানের জানান দিল। গত মাসেই কিয়েভে রুশ হামলায় ২৫ জন নিহত হওয়ার পর ইউক্রেন পাল্টা আঘাত হেনেছিল। তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই মস্কো নতুন করে এই আক্রমণ শুরু করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই ঘটনাকে ‘খ্রিস্টান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাশিয়ার অন্যতম বড় অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউনেস্কো এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনের নিজস্ব মার্কিন-তৈরি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার ফলে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *