‘স্যাটা গরম’ মন্তব্যে অনড় শিক্ষামন্ত্রী, আঞ্চলিক ভাষাতেই দিলেন কড়া জবাব!

সম্প্রতি কলেজে ভর্তিতে দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিতে গিয়ে “স্যাটা গরম করে দেব” মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী তথা সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই আঞ্চলিক শব্দপ্রয়োগ ঘিরে বিভিন্ন মহলে ও সমাজমাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। সোমবার বোলপুর সংলগ্ন কঙ্কালীতলায় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের এক শিবিরে এসে সেই বিতর্কেরই জবাব দিলেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বীরভূমের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা তাঁর অধিকার এবং এই ভাষা তাঁর গর্ব।
রাঢ়বঙ্গের ভাষাকে অপমানের অভিযোগ
নিজের মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তিনি বীরভূমের ভূমিপুত্র, তাই নিজের জেলার ভাষাতেই কথা বলবেন। মানুষের খাদ্যাভ্যাস বা পোশাক নির্বাচনের মতো নিজস্ব ভাষায় কথা বলার স্বাধীনতাতেও কারও হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রীর দাবি, যাঁরা তাঁর এই আঞ্চলিক শব্দের সমালোচনা করছেন, তাঁরা মূলত রাঢ়বঙ্গের সংস্কৃতি এবং ভাষাকেই অপমান করছেন। সামান্য একটি আঞ্চলিক শব্দের জন্য তাঁকে যেভাবে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্নীতি রুখতেই কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের বিস্তর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই আঞ্চলিক ভাষার সাবলীল প্রয়োগ একদিকে যেমন গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে তাঁর জনসংযোগকে আরও দৃঢ় করবে, তেমনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলা দুর্নীতিবাজদের মনেও কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভীতি সঞ্চার করবে। ভর্তিতে অনিয়ম রুখতে সরকারের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।