যোগ দিবসে নবান্নের কড়া ফরমান, সব সরকারি কর্মীর হাজিরা বাধ্যতামূলক!

যোগ দিবসে নবান্নের কড়া ফরমান, সব সরকারি কর্মীর হাজিরা বাধ্যতামূলক!

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আগামী ২১ জুন এই মেগা কর্মসূচি সফল করতে গত ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নবান্নের এই ফরমানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত কর্মীকে যোগ দিবসের কর্মসূচিতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

কড়া নজরদারিতে সব স্তরের কর্মী

মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেবল স্থায়ী কর্মীরাই নন, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মীই এই কর্মসূচির আওতা থেকে বাদ যাচ্ছেন না। সরকারের সমস্ত স্তরের স্থায়ী, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, আউটসোর্সড কর্মী এবং যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাম্মানিকের বিনিময়ে কাজ করেন, তাঁদের প্রত্যেককে এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পুর বা পঞ্চায়েত সংস্থার কর্মচারীদের জন্যও এই নির্দেশ সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত সমস্ত কর্মীকে উপস্থিত থাকতে হবে। কর্মচারীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর, নিজস্ব আবাসন চত্বর অথবা কলকাতার রেড রোড বা মিলন মেলা প্রাঙ্গণের মূল অনুষ্ঠানস্থলের যেকোনো একটি বেছে নিয়ে হাজির হতে পারবেন।

মেগা আয়োজনের নেপথ্য কারণ ও প্রভাব

২০১৪ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বা বিদেশে গিয়ে যোগ দিবস পালন করেন। গত বছর তিনি বিশাখাপত্তনমে, ২০২৪ সালে কাশ্মীরের শ্রীনগরে এবং ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে এই দিবস পালন করেছিলেন। এবার ২০২৬ সালের মূল অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন কলকাতাকে। কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যৌথ উপস্থিতিতে সাড়ম্বরে এই দিবসটি পালিত হতে চলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ উপস্থিতি এবং কলকাতার এই মেগা আয়োজনকে সফল করার লক্ষ্যেই রাজ্য প্রশাসন এমন নজিরবিহীন কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে সমস্ত স্তরের চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদেরও এর আওতাভুক্ত করায় মাঠপর্যায়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার একটি প্রচ্ছন্ন প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *