পরমাণু অস্ত্র ছাড়াই ট্রাম্পের সাথে ডিল ফাইনাল করল ইরান!

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে অবশেষে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী ইরান কখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হয়েছে। একই সাথে ইরানকে আমেরিকা ৩০০ মিলিয়ন ডলার বা বড় অঙ্কের কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে বলে যে খবর রটেছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চুক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে এই প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই সমঝোতা স্মারককে সংঘাত অবসানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, তবে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আরও কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে বলে তিনি জানান।
চুক্তির কারণ ও বৈশ্বিক প্রভাব
দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা অবসানের লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে এই শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হওয়া থেকে বিরত রাখা, যা এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
এই চুক্তির প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। এই কূটনৈতিক সাফল্যের জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থীতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি শেয়ার বাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।