ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি মামলায় ভবানীভবনে হাজির অভিষেক, সিআইডির একডাকেই সাড়া দিলেন তৃণমূল সাংসদ!

ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি মামলায় ভবানীভবনে হাজির অভিষেক, সিআইডির একডাকেই সাড়া দিলেন তৃণমূল সাংসদ!

কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পর পর তিন দিন একাধিক মামলায় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হলো তাঁকে। বিধানসভায় সই জাল মামলা এবং সোমবার ইডির দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার জেরার পর, মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির উদ্দেশে দেওয়া ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID)-র মুখোমুখি হলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

কাঁটায় কাঁটায় ১২টার আগেই ভবানীভবনে প্রবেশ

সিআইডির দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এদিন সকালেই ভবানীভবনে হাজিরা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে ভবানীভবন চত্বরে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা ও কড়া security বলয় গড়ে তোলা হয়।

ঘটনাস্থলের মূল বিবরণগুলি নিচে দেওয়া হলো:

  • আইনজীবীসহ হাজিরা: মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে নিজের আইনজীবীকে সাথে নিয়ে বের হন অভিষেক।
  • সময়ানুবর্তিতা: নির্ধারিত সময় অর্থাৎ দুপুর ১২টা বাজার ঠিক ২ মিনিট আগে, ১১টা ৫৮ মিনিটে তাঁর গাড়ি ভবানীভবনের সিআইডি দপ্তরে প্রবেশ করে।
  • তদন্তকারীদের প্রশ্নমালা: সিআইডি সূত্রে খবর, ডিজে মামলার তদন্ত কোন পথে এগোবে তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই এক দীর্ঘ প্রশ্নমালা তৈরি করে রেখেছিলেন গোয়েন্দারা। একাধিক উচ্চপদস্থ অফিসারের সওয়ালের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূল নেতাকে এবং আজই তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে।

ঠিক কী ছিল সেই বিতর্কিত ‘ডিজে মন্তব্য’?

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিজেপির শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে বেশ কিছু কড়া মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই মধ্যে অন্যতম ছিল এই ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি।

অভিষেকের সেই বিতর্কিত বক্তব্যটি ছিল ঠিক এই রকম:

“৪ মে-র পর তৃণমূল ফের বাংলার ক্ষমতায় আসবে। আর ক্ষমতায় ফিরেই বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে তারস্বরে ডিজে বাজানো হবে, যাতে ওদের কান ঝালাপালা হয়ে যায়।”

সাধারণভাবে রাজনৈতিক মহলে এটিকে রসিকতা মনে করা হলেও, বাচনভঙ্গি এবং শব্দচয়নের জেরে একে সরাসরি হুমকি ও উস্কানি হিসেবে গণ্য করে অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরে সেই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে নেয় সিআইডি। গত শুক্রবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে সমনের নোটিস ধরিয়ে এসেছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সেই নোটিসের পরিপ্রক্ষিতেই আজ ভবানীভবনে এলেন তিনি।

পর পর ৩ দিন বিভিন্ন মামলায় জেরার মুখে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড

গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার আইনি ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে বিধানসভায় সই জাল করার মামলার তদন্তে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিতে হয়েছিল তাঁকে। এরপর সোমবার প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) আধিকারিকদের দীর্ঘ ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। সেই ধকল কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার ফের সিআইডি-র ডাকে ভবানীভবনে হাজির হতে হলো তাঁকে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *