হরমুজ প্রণালী খুলতেই বিশ্ববাজারে স্বস্তি! দেশে কি কমল পেট্রোল-ডিজেলের দাম?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এই স্বস্তির প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়েনি। ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থাগুলো পেট্রোল ও ডিজেলের দামে গ্রাহকদের জন্য কোনো ছাড় দেয়নি।
তেল সংস্থাগুলোর লোকসান এবং দাম অপরিবর্তিত থাকার কারণ
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। এই অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধির জেরে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলো পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং জেট ফুয়েল বিক্রিতে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হয়। বর্তমানে মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের এই বিপুল ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া। এর ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে এখনই কোনো স্বস্তি মিলছে না। উল্লেখ্য, মে মাসে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই মাত্র ১১ দিনের মধ্যে চার দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। গত ২৫ মে-র পর থেকে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানির বর্তমান দর
মঙ্গলবার দেশের প্রধান শহরগুলোতে জ্বালানির দাম আগের মতোই রয়েছে। কলকাতায় এক লিটার পেট্রোলের দাম ১১৩.৫১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৯.৮২ টাকা। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোল ১০২.১২ টাকা ও ডিজেল ৯৫.২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পেট্রোল ১১১.২১ টাকা ও ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকা এবং চেন্নাইতে পেট্রোল ১০৭.৭৭ টাকা ও ডিজেল ৯৯.৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা চাইলে ঘরে বসেই ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের নির্দিষ্ট নম্বরে নিজেদের সিটি কোড লিখে এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে প্রতিদিন সকাল ৬টায় হালনাগাদ হওয়া জ্বালানির সর্বশেষ দর সহজেই জেনে নিতে পারেন।