মহিলা সাংসদদের আসাম্মান করার অভিযোগ! কল্যাণের বহিষ্কার চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির

সংসদের অন্দরে মহিলা সাংসদদের প্রতি লাগাতার ‘আপত্তিকর ও আসাম্মানজনক’ মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠল শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাঁর এই অশোভন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং লোকসভা থেকে তাঁর স্থায়ী বহিষ্কার দাবি করে স্পিকার ওম বিড়লাকে বিস্ফোরক চিঠি দিলেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কল্যাণের এই ধরণের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে সংসদীয় রীতিনীতি ও আচরণের পরিপন্থী বলে চিঠিতে দাবি করেছেন তিনি।
‘নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও ব্যক্তিগত হেনস্তা’, স্পিকারের কাছে সরব কাকলি
স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন যে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদের ভেতরে বারবার তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করছেন এবং হেনস্তা করে চলেছেন।
চিঠিতে উল্লিখিত প্রধান অভিযোগগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- লাগাতার আক্রমণ: কাকলিদেবীর দাবি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র তাঁকেই নন, সংসদের অন্যান্য মহিলা সাংসদদেরও বিভিন্ন সময়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর কথা বলেছেন। একবার নয়, একাধিকবার এই ধরণের অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে।
- অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি: লোকসভার অন্দরে এমন কিছু কুৎসিত ও নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা আলোচনা করা হয়, যার ফলে সেখানে উপস্থিত মহিলা সাংসদেরা চরম অস্বস্তিবোধ করেন এবং অংশগ্রহণ করতে বাধা পান।
- সংসদীয় আইন লঙ্ঘন: শ্রীরামপুরের সাংসদের এই ধরণের আচরণ লোকসভার ৩৪৯ নম্বর ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং এটি সংসদের চরম অবমাননার শামিল।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁকে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন বারাসাতের এই সাংসদ। উল্লেখ্য, এর আগেও কল্যাণের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও নারীবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে ওম বিড়লাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি।
নারদ ও সিন্ডিকেট খোঁচা দিয়ে পাল্টা জবাব কল্যাণের
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বিস্ফোরক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য বিন্দুমাত্র দমে যাননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে বারাসাতের সাংসদকে অতীত মনে করিয়ে দিয়ে তীব্র পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
কাকলিদেবীর চিঠির জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“আমি ২০১১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক বা চিফ হুইপ পদে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব সামলেছি। মাঝে মাত্র কয়েক মাস আমি এই পদে ছিলাম না। ফলে সংসদীয় আচরণ কী এবং কেমন হওয়া উচিত, তা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে। উনি এখন কোন মুখে আমার আচরণ নিয়ে কথা বলছেন?”
পাল্টা জবাবে এখানেই থেমে থাকেননি কল্যাণ। তিনি বারাসাতের সাংসদের দিকে ইঙ্গিত করে অতীতে রাজ্য রাজনীতি কাঁপানো ‘নারদ কেলেঙ্কারি’ এবং এলাকায় চলা ‘সিন্ডিকেট’ রাজের প্রসঙ্গ টেনে এনে তীব্র কটাক্ষ করেন। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের দুই প্রবীণ সাংসদের এই ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি ও সংঘাত জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।