রেড রোডে যোগের অনুমতি মিললেও নমাজে কেন আপত্তি, বিতর্ক উসকে ইমামদের কড়া জবাব দিলেন দিলীপ ঘোষ

কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রেড রোডে এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য সাত দিন রাস্তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসলিম ধর্মের ইমাম ও মৌলানারা। তাঁদের দাবি, রেড রোডে যদি যোগ দিবসের মতো মেগা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া যায়, তবে নমাজ পড়ার ক্ষেত্রে কেন আপত্তি তোলা হচ্ছে? ধর্মগুরুদের এই প্রশ্নের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
পাল্টা প্রশ্ন ও নিরাপত্তার যুক্তি
ইমামদের এই আপত্তির জবাবে দিলীপ ঘোষ অতীতের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, এর আগে দীর্ঘ ১০৭ বছর ধরে রেড রোডে নমাজ পড়া হয়েছে। তখন কোনো সংখ্যালঘু প্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেননি যে এত বড় মাঠ বা মসজিদ থাকতে কেন রেড রোডে নমাজ পড়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান এমন জায়গায় করা উচিত যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা কম হয়। অন্য কোথাও এই আয়োজন করা হলে নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশকে এমনিতেও চারপাশের এলাকা বন্ধ রাখতে হতো। তাই তুলনামূলক কম জনাকীর্ণ এলাকা হিসেবে রেড রোডকে বেছে নেওয়া সম্পূর্ণ একটি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রোটোকলের বিষয়। যা হচ্ছে, তা মানুষের ভালোর জন্যই হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
যোগ দিবসের প্রস্তুতি ও ট্র্যাফিকের ওপর প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ২১ জুনের এই যোগ দিবসের অনুষ্ঠান সফল করতে ইতিমধ্যেই রেড রোডে জোরকদমে মঞ্চ বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই মেগা ইভেন্টের জেরে কলকাতার চেনা ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আসছে। ১৪ জুন রাত ১০টা থেকে ২১ জুন অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেড রোডে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এছাড়া ২১ জুন রাত ২টো থেকে শহরের একাধারে এজেসি বোস রোড, জওহরলাল নেহরু রোড, স্ট্র্যান্ড রোড ও মেয়ো রোডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি এবং সাধারণ যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও, টানা কয়েকদিন ধরে শহরের একটি বিস্তীর্ণ অংশে তীব্র যানজট ও যাতায়াত বিভ্রাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।