জাহাঙ্গিরকে ছাড়াতে ফলতা থানা ঘেরাও, ফোর্সের তাড়া খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ পুষ্পা বাহিনীর!

আটক দাপুটে নেতাকে থানা থেকে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। আর কেন্দ্রীয় জওয়ানদের তাড়া খেয়ে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে, সাঁতার কেটে প্রাণ বাঁচালেন বিক্ষোভকারীরা। ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের স্ত্রীর নেতৃত্বেই এই থানায় চড়াও হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ফলতা থানা ঘেরাও এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অ্যাকশন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধৃত নেতা জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর স্ত্রীর নেতৃত্বে এক বিশাল মিছিল সরাসরি ফলতা থানা ঘেরাও করে।
ঘটনাস্থলের মূল বিবরণ:
- জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা: মিছিল করে এসে একপ্রকার গায়ের জোরেই থানা থেকে জাহাঙ্গিরকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। উত্তেজিত জনতা থানার মূল গেট ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁদের শক্ত হাতে বাধা দেন।
- লাঠিচার্জ ও ছত্রভঙ্গ: থানা চত্বরে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখনই সক্রিয় ভূমিকা নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে জওয়ানেরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করেন এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতর্কিত প্রতিরোধে মুহূর্তের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। জওয়ানদের লাঠির ঘা থেকে বাঁচতে এলাকায় চরম হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, প্রাণ বাঁচাতে এবং পালানোর অন্য কোনও রাস্তা না পেয়ে বহু বিক্ষোভকারী ও ‘পুষ্পা’ বাহিনীর সদস্য পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তাঁদের রীতিমতো সাঁতরে এলাকা থেকে পালাতে দেখা যায়।
কান ধরে ক্ষমা চাওয়া থেকে নেপাল সীমান্তে গ্রেফতারি
গত কয়েকদিনে ফলতার বুকে একসময়ের ‘বেতাজ বাদশা’ জাহাঙ্গির খানের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র বারবার দেখা গিয়েছে। একদা যাঁর ভয়ে এলাকা কাঁপত, সেই দাপুটে নেতাকে এখন পুলিশি ঘেরাটোপে হাতজোড় করে, মাথা ঝুঁকিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজের কৃতকর্মের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে দুই হাত দিয়ে কান ধরে অনুতপ্ত ভঙ্গিতে ক্ষমা চাইতেও দেখা গিয়েছে এই নেতাকে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারি নিয়ে ফলতা তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই তিনি এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। অবশেষে উত্তরবঙ্গের ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে পাকড়াও করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ রয়েছে।
আরও ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর
পাঁচ দিনের প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষে গত রবিবার জাহাঙ্গির খানকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম (ACJM) আদালতে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তের গভীরে পৌঁছাতে এবং এই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অসংখ্য অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে জোরালো আবেদন জানায় পুলিশ। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে আদালত জাহাঙ্গির খানকে ফের নতুন করে ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের (PC) নির্দেশ দিয়েছে। সেই হেফাজত চলাকালীনই তাঁকে ছাড়াতে এই মরিয়া ও হিংসাত্মক চেষ্টা চালাল তাঁর অনুগামীরা।