১৭৭ দেশের সমর্থনে যেভাবে শুরু হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবস

১৭৭ দেশের সমর্থনে যেভাবে শুরু হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবস

শরীর সচল ও মন প্রফুল্ল রাখতে প্রাচীনকাল থেকেই যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা প্রমাণিত। ভারতের এই হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রথম প্রস্তাব রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই দূরদর্শী প্রস্তাবনায় বিশ্বের রেকর্ডসংখ্যক ১৭৭টি দেশ তাৎক্ষণিক সায় দেয়। এর পর জাতিসংঘের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২১ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হয় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস।

২১ জুন তারিখটি বেছে নেওয়ার নেপথ্য কারণ

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের জন্য ২১ জুন তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় কারণই রয়েছে। ২১ জুন হলো উত্তর গোলার্ধের বছরের দীর্ঘতম দিন, যাকে গ্রীষ্মকালীন অয়ন বলা হয়। এই দিনটিতে সূর্যের আলো সবচেয়ে বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে থাকে। ভারতীয় আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ সময়ের পর থেকে দক্ষিণায়ন শুরু হয়। আর দক্ষিণায়নের এই কালখণ্ডকে আত্মবিশ্লেষণ, সাধনা ও আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য অত্যন্ত শুভ এবং উপযুক্ত সময় বলে মনে করা হয়।

ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও ২০২৬ সালের বিশেষ লক্ষ্য

২০১৫ সালে নতুন দিল্লির রাজপথে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ৮৪টি দেশের ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। একসঙ্গে বিশাল জনসমাগম এবং রেকর্ডসংখ্যক দেশের অংশগ্রহণের কারণে অনুষ্ঠানটি দুটি ক্যাটাগরিতে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখায়। মূলত যোগব্যায়ামের বহুমুখী উপকারিতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা এবং সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতা এড়াতে এবং বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সুস্থ ও গতিশীল রাখতে সময় থাকতেই যোগাভ্যাসে মানুষকে অনুপ্রাণিত করাই এবারের আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *