একুশে জুলাইয়ের আগেই মমতাকে জোড়া ধাক্কা, প্রতীক কাড়তে একজোট বিদ্রোহীরা!

একুশে জুলাইয়ের আগেই মমতাকে জোড়া ধাক্কা, প্রতীক কাড়তে একজোট বিদ্রোহীরা!

ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই ছন্নছাড়া দশা তৃণমূল কংগ্রেসে। দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে একাধিক বিদ্রোহী শিবির, ফলে আসল তৃণমূল কে তা নিয়ে প্রবল ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর মাঝেই আগামী ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে সামনে রেখে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে আরও বড় ধাক্কা দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে বিরোধী শিবির। লোকসভার প্রবীণ বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতায় এমনই ইঙ্গিত মিলছে।

প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ছক

তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ইতিমধ্যেই নতুন রাজনৈতিক দল ‘এনসিপিআই’-তে যোগ দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছিল তাঁরা হয়তো পুরনো দলের মায়া ত্যাগ করেছেন। তবে প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লি থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতীক ও সম্পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে। অর্থাৎ, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের নাম, প্রতীক এবং সম্পত্তির অধিকার টিকিয়ে রাখতে বড়সড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিদ্রোহীদের ঐক্যের চেষ্টা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

ক্ষমতাচ্যুতি ও নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাই মূলত তৃণমূলের এই ধারাবাহিক ভাঙনের প্রধান কারণ। তবে বর্তমানে লোকসভার বিদ্রোহী শিবির (কাকলি-সুদীপ পন্থী) এবং বিধানসভার বিক্ষুব্ধদের (ঋতব্রত পন্থী) এক ছাতার তলায় আনার জোরদার চেষ্টা চলছে দিল্লিতে। আগামী ২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সমস্ত জটিলতা মিটিয়ে ফেলতে চাইছেন বিদ্রোহীরা। দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠী একজোট হলে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক চরম রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে। এর ফলে দলের আসল অস্তিত্ব ও স্বীকৃতি চরম প্রশ্নের মুখে পড়বে। যদিও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদদের এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এই ঐক্যের জল্পনায় আপাতত কিছুটা জল ঢেলেছেন, তবুও একুশে জুলাইয়ের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় পট পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *