শহিদ দিবসের আগেই তৃণমূল দখলের মেগাপ্ল্যান! সুদীপের নিশানায় দিল্লি ও বাংলার মেলবন্ধন

শহিদ দিবসের আগেই তৃণমূল দখলের মেগাপ্ল্যান! সুদীপের নিশানায় দিল্লি ও বাংলার মেলবন্ধন

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা থেকে শুরু করে দিল্লির সংসদ পর্যন্ত কার্যত আড়াআড়ি বিভক্ত ঘাসফুল শিবির। একদিকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০-৬৫ জন বিধায়ক নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে দলের প্রতীকে জেতা ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টির (NCPI) সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংসদে এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই জোড়া ধাক্কার পর এবার দিল্লি এবং বাংলার বিদ্রোহী শিবিরকে এক ছাতার তলায় আনতে তৎপর হয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিদ্রোহীদের সংযুক্তির ব্লু-প্রিন্ট

আগামী ২০ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে এবং ২১ জুলাই তৃণমূলের বার্ষিক শহিদ দিবস। এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের আগেই বিদ্রোহীরা যাবতীয় কৌশল চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান অনুযায়ী, রাজ্যের বিদ্রোহী বিধায়কদের মতোই দিল্লিতে সাংসদরাও স্পিকারকে চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘আসল ও সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করবেন। দলের অন্দরের ক্ষোভ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ থেকেই এই অভাবনীয় বিদ্রোহের সূত্রপাত বলে মনে করা হচ্ছে। কাকলি ঘোষদস্তিদার এবং শতাব্দী রায়ের মতো নেত্রীরা এই গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন।

প্রতীক ও সম্পদের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এই জোড়া বিদ্রোহের জেরে তৃণমূলের অন্দরে এক দীর্ঘস্থায়ী আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলের প্রতীক, নাম এবং সম্পত্তির অধিকার কার হাতে থাকবে, তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। লোকসভায় স্পিকারের মাধ্যমে নতুন ব্লক তৈরি এবং পার্টি অফিস বরাদ্দের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে বিদ্রোহী শিবিরের আশা। এর ফলে রাজ্য রাজনীতি এবং জাতীয় স্তরে সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। তবে এই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিদ্রোহী শিবিরে নেতৃত্ব দিলেও তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই পূর্ণ আস্থা রাখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *