বিরোধী দলনেতা নির্বাচন বিতর্ক এবার সরাসরি আদালত কক্ষে, হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নে চরম অস্বস্তিতে স্পিকার

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা এবার আরও ঘনীভূত হলো। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এই দ্বন্দ্বে কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো খোদ বিধানসভার স্পিকারকে। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে স্পিকারের ভূমিকা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলেছে আদালত। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ বিচারপতি মন্তব্য করেন, প্রয়োজনে গোটা বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। এই পরিস্থিতির জেরে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির।
সংঘাতের সূত্রপাত ও স্পিকারের সিদ্ধান্ত
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। বিধানসভায় শাসকদলের বিক্ষুব্ধ বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে জোটবদ্ধ হন। পরবর্তীকালে বিরোধী দলনেতা পদের জন্য তৃণমূলের মূল অংশ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হলেও, স্পিকার শেষ পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও নিরপেক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় অন্য পক্ষ।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের তদন্তের ইঙ্গিত
এদিনের শুনানিতে স্পিকারের সিদ্ধান্তের ভিত্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। একই দল থেকে দুটি ভিন্ন নাম প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্পিকার কীভাবে নিজে সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। বিধানসভা না ডেকে স্পিকার নিজের চেম্বারে বসে কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করলেন, সেই প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত আইনি সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিধায়কদের স্বাক্ষরের সত্যতা এবং ব্লক লেটারে সই করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই জালিয়াতি বা ত্রুটি খতিয়ে দেখতে পুলিশের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।
এই আইনি টানাপোড়েনের ফলে বিধানসভার ভেতরে দলত্যাগ ও পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্পিকারের একক ক্ষমতার পরিধি কতটা, তা নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল, বুধবার।