ইনস্টাগ্রামের প্রেম গড়াল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে, বেঙ্গালুরুতে লিভ-ইন পার্টনারকে শ্বাসরোধ করে খুন!

ইনস্টাগ্রামের প্রেম গড়াল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে, বেঙ্গালুরুতে লিভ-ইন পার্টনারকে শ্বাসরোধ করে খুন!

সোশ্যাল মিডিয়ার আলাপ থেকে প্রেম, তারপর লিভ-ইন সম্পর্ক। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মাথায় সেই সম্পর্কের পরিণতি হলো অত্যন্ত মর্মান্তিক। বেঙ্গালুরুর মাল্লেশ্বেরম এলাকায় সামান্য বচসার জেরে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে। মৃত তরুণীর নাম অনুষা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক শরৎকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দু’জনেই কর্নাটকের হাসন জেলার সাকলেশপুরের বাসিন্দা ছিলেন।

সামান্য বচসা থেকে চরম হিংস্রতা

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে আলাপের পর অনুষা ও শরতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ছয় মাস ধরে তাঁরা মাল্লেশ্বেরম এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। গত শনিবার রাতে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তুমুল কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বিবাদ হাতাহাতির রূপ নেয়। রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শরৎ অনুষার গলা টিপে ধরেন, যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় তরুণীর। ঘটনার পর ভয়ে অনুষার নিথর দেহ ঘরে ফেলে রেখেই চম্পট দেয় অভিযুক্ত যুবক।

আইনজীবীর মাধ্যমে রহস্যভেদ ও সামাজিক প্রভাব

শনিবার রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত সোমবার। অপরাধবোধ বা আইনি জটিলতার ভয়ে শরৎ নিজেই এক আইনজীবীর কাছে গিয়ে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। ওই আইনজীবী তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুষার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত শরৎ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বাস্তবে রূপ নেওয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব দেখা যাচ্ছে। আবেগের আকস্মিক বিস্ফোরণ, যুবসমাজের মধ্যে সহনশীলতার ঘাটতি এবং ক্ষণিকের রাগ কীভাবে মারাত্মক অপরাধের জন্ম দিচ্ছে, এই ঘটনা তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। ঘরোয়া হিংসা এবং লিভ-ইন সম্পর্কের সুরক্ষাহীনতা নিয়ে এই ঘটনা সমাজে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তকে জেরা করে খুনের নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *