জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদীর জোর কূটনৈতিক তৎপরতা, নজরে শুধুই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ!

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার সম্মেলনের মাঝেই তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক সারেন। দুই রাষ্ট্রনেতার এই আলোচনায় মূলত পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, মিশর, কেনিয়া এবং জাপানের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সর্বাধিক গুরুত্ব
আমিরশাহি ছাড়াও মোদী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে সফল বৈঠক করেছেন। এই প্রতিটি বৈঠকেরই মূল ভিত্তি ছিল পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি। প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও নিবিড় করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণার ঠিক পরেই এই বৈঠকগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গোটা বিশ্ব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ফের সচল হওয়ার আশায় বুক বাঁধছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমবে এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি প্রাধান্য পাবে, যা ভারতের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।