প্রমাণ লোপাট করেও মিলবে না রেহাই, খুনিদের খুঁজতে লালবাজারে আরও ২ ট্র্যাকার ডগ!

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে অপরাধীদের নাগাল পেতে এবার আরও শক্তিশালী হচ্ছে ডগ স্কোয়াড। খুন বা ডাকাতির মতো বড়সড় অপরাধের কিনারা করতে লালবাজারে যোগ দিচ্ছে আরও দুটি নতুন ‘ট্র্যাকার ডগ’ বা অপরাধী সন্ধানী কুকুর। অপরাধী ঘটনাস্থলে নিজের অজান্তে ফেলে যাওয়া শরীরের গন্ধের সূত্র ধরে পুলিশ যাতে সহজেই তার নাগাল পেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের গতি বাড়াতে ট্র্যাকার ডগের গুরুত্ব
বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে থাকা বেশিরভাগ সদস্যই ‘বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ’। ভিআইপি নিরাপত্তা কিংবা কোনো সন্দেহজনক বস্তুর সন্ধানে এদের মূলত ব্যবহার করা হলেও, বড় অপরাধের তদন্তে ট্র্যাকার ডগের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র দুটি। লালবাজারের কর্তাদের মতে, বিশাল এই শহরের অপরাধ দমনে এই সংখ্যা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। অপরাধীরা অনেক সময় প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করলেও তাদের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র শুঁকে বা তাদের গায়ের গন্ধের রুট ধরে পালানোর পথ চিহ্নিত করতে এই ট্র্যাকার কুকুর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এই ঘাটতি মেটাতেই নতুন করে ট্র্যাকার কুকুর স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরও চারটি বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ কুকুরও ডগ স্কোয়াডে যোগ দেবে বলে জানা গেছে।
৪৬ ডিগ্রি গরমে চলছে কঠিন প্রশিক্ষণ
নতুন এই গোয়েন্দা কুকুরদের কর্মক্ষম করে তুলতে কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র জেলার টেকানপুরে বিএসএফের বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে এদের কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমের মধ্যেও যাতে তারা অনায়াসে কাজ করতে পারে, সেই উপযোগী করেই ল্যাব্রাডর ও ককার স্প্যানিয়েল প্রজাতির এই কুকুর শাবকগুলিকে তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণাধীন ছয়টি কুকুরের মধ্যে দুটি ল্যাব্রাডরকে খুনি ও অপরাধী খোঁজার বিশেষ ট্র্যাকার ডগ হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বাকি চারটিকে দেওয়া হচ্ছে বিস্ফোরক চেনার প্রশিক্ষণ।
লালবাজারের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে শহরের বড় বড় অপরাধের তদন্তে এবং রহস্যের জট খুলতে পুলিশের তদন্তকারী দল অনেক বেশি গতি পাবে। এর ফলে অপরাধ ঘটিয়ে গা ঢাকা দেওয়া বা প্রমাণ নষ্ট করে পার পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।